Home

399132_3250572455821_996996691_n

“কলকাতায় ষাট-সত্তরে একশ্রেনীর বামপন্থীরা একটা রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছিল। কেউ কংগ্রেস করলেই বা সমর্থন করলেই বা সমর্থনসূচক কথা বললেই তারা বলতেন পাগল না কংগ্রেস! ইদানিং আমাদের দেশেও একশ্রেনীর বামের আবির্ভাব ঘটেছে কেউ আওয়ামীলীগ করলেই বা সমর্থন করলেই বা সমর্থনসূচক কথা বললেই তারা বলেন পাগল না আওয়ামীলীগ।

“আমাদের দেশে ওয়ার্ল্ডব্যাংক ও এডিবি বিরোধী এনজিও আর কতিপয় বামের মধ্যে পার্থক্য এত সামান্য যে ওয়ার্ল্ডব্যাংক ও এডিবি বিরোধী ফান্ডকে তারা বিপ্লবের সহযোগিতা মনে করে।

“আমাদের দেশে এত বাহারি রকমের কলাম লেখক যে মাঝে মাঝে ওদের পরিচয় দেখতে গিয়ে সংকটটাই প্রথমে চোখে পড়ে যেমন প্রবাসী লেখক। প্রবাসী লেখক বলে যে একটা কিছু পরিচয় দেবার মত কিছু থাকতে পারে তা অবুঝের মত প্রথমে মেনে নিলেও পরে মনে পড়ে এই সংকট শুধু প্রবাসীদের নয় সব কলাম লেখকরেই।

“আমাদের দেশে এক প্রকার জীব আছে যাদের যে কোন কথাতেই ভারত বিরোধিতা করতে দেখা যায়, তাদের কথা ভেবে আজ খুব খারাপ লাগছে। –

“উইকিলিকস প্রকাশনায় প্রথম আলো যদি মার্কিনপন্থী হয় আর নিউ এইজ যদি মার্কিনবিরোধী হয়, তাহলে আমাদের নুরুলভাই বিপ্লবী(?!) আর মতি ভাই প্রতিবিপ্লবী(?!)। আর এজন্যে একজন আঙ্গুল দিয়ে বেশি কথা বলেন, আরেকজন দাঁত দিয়ে।

“সম্প্রতি আধা বাম, আধা নারীবাদী টাইপের কয়েকটা ছেলে বলল, নারীবাদীদের নিয়ে আপনি যা বলছেন তাতে আপনারে মারা উচিত। তাহলে কি আসলেই একটা পরিবর্তন এসেছে ? আমি ওদের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে চোখ বুলাই। দেখি একজন পূর্ব প্রেমিকাকে পরিত্যাগ করে আরেকজনের সঙ্গে লিভ টুগেদার করে, একজন বউ ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করেছে আরেকজনকে। নারীবাদীরা কি এমন? তাহলে কেন তারা এরকম নারীবাদীদের পক্ষে তত্ত্ব কপচায়? এক সময় মনে হয় হয়ত এমন কোনো দেনা-পাওনার সম্পর্ক আছে যা সে বলতে পারে না কিন্তু আমাদের বুঝে নিতে হয়।

এক সময় নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে অরুন্ধতী রায় ও মেধা পাটেকেরের বিরুদ্ধে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা খেয়ে আন্দোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল, এখন আন্না হাজারের বিরুদ্ধে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা খেয়ে আন্দোলন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও দুই অভিযোগই প্রমাণহীন। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোস্বা প্রকাশ পেয়েছে উইকিলিকসে। সিভিল ও বাম সবাই মিলে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছেন। এইখানে সরাসরি এনজিও অংশগ্রহনও আছে। একে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তোষণমূলক আন্দোলন বললে সমস্যা দেখি না।

আমাদের দেশে কোন বাম রাজনৈতিক দল রাতের বেলায় কোন বড় দলের সাথে শোয়, এটা বোঝার সহজ উপায় সেই বাম রাজনৈতিক দলের সদ্য পাস করা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রটি প্রথম কোথায় চাকরি পায় তা দেখে।

ভারতে আন্নার আন্দোলনে অরুন্ধতী যখন এনজিও ও এনজিও কর্মীর প্রসংগ নিয়ে আসেন তখন বলা হয় তিনি খুব ভাল, আর বাংলাদেশে বামপন্থীসহ যে কোনও আন্দোলনে এনজিও ও এনজিওকর্মীর প্রসংগ কেউ নিয়ে আসলে বলা হয় তিনি খুব খারাপ। এই রাজনৈতিক দশাকে গুরুচণ্ডালী বলা যেতে পারে।

বাংলাদেশে এক সময় লেনিন আজাদরা এনজিও মডেল দিয়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিল, যাই হোক এরা টিকেনি। এখন আরেক নতুন ধরণের বাম দেখা যাচ্ছে এরা বলছে এনজিও মডেল নয় এনজিও কর্মীদের নিয়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে হবে। প্রথম বিষয়টাকে আমার মনে হয়েছে স্বপ্নদোষ, আর দ্বিতীয় বিষয়টাকে আমার মনে হচ্ছে দ্রুতবীর্যপাত।

আমাদের দেশে বেগম রোকেয়া হলেন সুশীল মধ্যবিত্ত (মুসলিম) বাঙ্গালীর নারীচিন্তক, তসলিমা নাসরিন হলেন বখে যাওয়া মধ্যবিত্ত তরুন-তরুনীদের নারীচিন্তক আর হুমায়ুন আজাদ হলেন নারীচিন্তকদের নারীচিন্তক।

আমাদের দেশে নারীবাদী পুরুষদের ঘরের বউ সুন্দর থাকতে হয়, পূর্ব প্রেমিকা বা বউকে পরিত্যাগ করে হলেও।

“নারীবাদী মহিলাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরই তারা মুক্ত যৌন মিলনের প্রসঙ্গে টেনে আনেন। –

“আমাদের দেশে সারা পলিনমার্কা নারীবাদীদের আশ্রয়স্থল হতে পারে এফডিসি।

“বিশ্বের প্রথম সারির একজন নারীবাদী হলেন সারা পলিন।”

“নারী মানেই নারীবাদী নয়, নারীবাদ একটা ধারণা । এটা নারী-পুরুষ উভয়ই বহন করে। নারীরাও পুরুষতান্ত্রিক আচরণ করে। সে হিসেবে নারীও নারীকে ধর্ষণ করে।

“বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ আর এনজিও পাড়ার মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই। দুইটাই খায় আর হাসে।

“ভারতীয় উপমহাদেশ আর ইউরোপের নর-নারী সম্পর্কের ধরনের মধ্যে একটা বড় ধরনের ফারাক আছে। ইউরোপে নর-নারীর কারও ভাল না লাগলে তারা সরাসরি বলেন এবং বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। আর ভারতীয় উপমহাদেশে নর-নারীরা কেউ কখনই কাউকে কিছু বলেন না। বরঞ্চ পরকীয়া, বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি ক্রাইমের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

“গোষ্ঠীভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চা- গোষ্ঠীভিত্তিক লিটলম্যাগ চর্চার সঙ্গে সঙ্গে গোষ্ঠীভিত্তিক কাদা ছোড়াছুড়ি, গোষ্ঠীভিত্তিক হুমকি-ধামকি- মারপিটও বেশ জনপ্রিয়।

বুক রিভিউয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে যে সন্ত্রাসী কাজ-কর্ম চলে, তাকে রিভিউ সন্ত্রাস বলে।

“ফেসবুক terms এ লেখা আছে। # You will not provide any false personal information on Facebook, or create an account for anyone other than yourself without permission.

# You will not create more than one personal profile. অথচ ফেসবুকে অনেক বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার জন্য false account বেছে নেন। যারা এই false account ব্যবহার করে, তাদের বুদ্ধি ও উদ্দেশ্যটাও false বা খারাপ।

“আমাদের দেশে এনজিওমার্কা কিছু বুদ্ধিজীবী নিজেদের জাতি বলে পরিচয় দিতে উদগ্রীব, কেননা তাদের জাত-পাতের সমস্যা আছে।

“আমাদের দেশের কবিদের কবিতা তেমন কেউ পড়ে না বা বই বিক্রি হয় না বলেই, একধরনের ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স থেকে ফেসবুকে কপিরাইট কপিরাইট বলে চিল্লায়।

আমাদের দেশে দুই শ্রেনীর উন্নতমানের গর্ধ্বব রয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক , আরেকটা কলাম লেখক।

“বাংলাদেশে দুই ধরণের লিটলম্যাগ সম্পাদক আছে। একটা ছাগল ( ছাগলে কি না খায়), আরেকটা পাগল ( পাগলে কি না বলে)।

“মন্ত্রী-এমপিদের মত বিখ্যাত বা অল্প বিখ্যাত লেখক-কবিদেরও ক্যাডার বা মাস্তান কবি-লেখক সঙ্গে রাখতে হয়। তা না হলে মন্ত্রী-এমপিদের মত তারাও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

“আমাদের দেশে দুই ধরণের যুক্তি চর্চা হয়। এক. নেতা যা বলেছেন তার পক্ষে যুক্তি তৈরি করা । সেটা গাঁজাখুরিই হোক আর আফিমখুরিই হোক। দুই. যে যে নেতার পক্ষের যুক্তি মানছে না, তাকে যে কোন ভাবে হুমকি, হেনস্থা ইত্যাদির জন্য যুক্তি তৈরি ও প্রকাশ করা। –

“জাতীয় ফল, জাতীয় নেতা, জাতীয় রাজনীতি, জাতীয় কমিটি এসব শব্দের মধ্যে এক ধরণের ভণ্ডামি লুকিয়ে থাকে।

“কোনও একটি ইস্যুতে বিশ-ত্রিশ জন সমাবেশ করার মানে দেশের অধিকাংশ জনগণ এই ইস্যুর বিপরীতে। –

“মেয়েরা পরকীয়া করলে নারীবাদী আর ছেলেরা পরকীয়া করলে নিপীড়ক।

“উঠতি নায়িকাদের বিয়ে করতে নেই, অথবা বিয়ে করলেও বলতে নেই। তা না হলে নায়িকারা উঠার আগেই পড়ে যায়।

“আজ ফার্মগেট থেকে সমকালে আসার জন্য এক রিক্সা চালককে জিজ্ঞেস করলে সে চোখ উল্টে দিয়ে বলল ৩০ টাকা, আমি মাথা নিচু করে ভাবলাম এরকম আমিও যদি চোখ উল্টো করে আমার বসকে বলতে পারতাম বেতন দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।

“আমাদের দেশে মার্কসীয় প্রগতিশীলতার নামে যা চর্চা হয় তা আসলে ইউরোপীয় প্রগতিশীলতা।

“সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পার্থক্য হল- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার বদলে ঘুমকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টাকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

“বুদ্ধিজীবী ব্যবসার লাভ দুইটি। এক. কাল টাকা সাদা করা যায়। দুই. মন্ত্রী-এমপিরা সমীহ করে মালিকের সঙ্গে কথা বলেন।

“ভারতের লেখকদের বিরোধিতা ও ভারতের লেখকদের লেখা প্রকাশ- এই দুই কাজ একসাথে করাকে গুরুচণ্ডালী বলে।

“বাংলাদেশে বামপন্থীরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িতের পক্ষে কথা বলে, আর সবচেয়ে বেশি কাজ করে নিপীড়নমুক্ত এলাকায়।

“খ্রিস্টান এইডের টাকা খেয়ে ইসলামি জঙ্গি গালি খাওয়া ভাল। এতে মুসলমানদের কাছে খ্রিস্টান হিসেবেও গালি খেতে হয় না। আবার ভালবাসাটাও থাকে। সাথে সাথে এইডের কাজটাও নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে করা যায়।

“বাংলাদেশে কলাম লেখক আর পর্ণোলেখকের মধ্যে মিল হল একজন এমনভাবে নারীর শরীরকে উপস্থাপন করে যেন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়, আরেকজন এমনভাবে জনগণের শরীরকে উপস্থাপন করে যাতে নিপীড়ক আরও নিপীড়ন করতে উদ্যত হয়।

“আজিজ মার্কেট বা সাহিত্য মাফিয়াদের বাসায় ঝগড়া বা ষড়যন্ত্র বা মারপিট করার চেয়ে জনসম্মুখে মানে ফেসবুকে এসব করা ভাল।

“কোম্পানির মালিকরা গান-বাজনাসহ নানা কায়দায় তার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়। আর কবি-লেখকরা আলোচনা-সভা-সমাবেশ-তর্ক-বিতর্ক করে তার বইয়ের বিজ্ঞাপন দেয়।

“আগে সমালোচকরা বলতেন, তিনি এই দশকের কবি বা লেখক। এখন কবি বা লেখকরাই আগে বলে দেন তিনি এই দশকের ।

“বিষ্ণু দেরা রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করতেন তার কবিতার এন্টি ডিকশন তৈরি করার ভিতর দিয়ে। এখন অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করে বা করতে চায় গালিগালাজ করার ভিতর দিয়ে।

“বাংলাদেশে মিডিয়া ও সংবাদপত্র এত নিম্নমানের হওয়ার বড় কারণ মেট্রিক-নন মেট্রিক সাংবাদিকদের দৌরাত্ম।

“কৃষক বিদ্র্রোহের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গে কৃষকরাই বামফ্রন্টকে নিয়ে এসেছিলেন, কৃষকরাই বামফ্রন্টকে ত্যাগ করলেন।

“আমাদের দেশে এখনও বিজ্ঞানের নামে যা চর্চা হয় তা সমাজ বিজ্ঞান।

“মধ্যবিত্তের লালনচর্চার সর্বশেষ পরিণতি হয়েছে লালন ফাউন্ডেশন। এবার বাউল চর্চার জন্য বাউল ফাউন্ডেশনের অপেক্ষায় আছি। –

“আমাদের দেশে চরম ডানপন্থী বুদ্ধিজীবীদেরও এখনো পর্যন্ত প্রধান লেবাস বাম। এটি একটি সুখের বিষয়। –

ওবামা ও ওসামার পার্থক্য হল ওবামার দাড়ি নাই, ওসামার দাড়ি আছে।

“সরকারি-বিরোধী যে কোন দলের মন্ত্রী-এমপিদের সাথে চেক এন্ড ব্যালেন্সের নাম বুদ্ধিজীবীতা।

এ উপমহাদেশে প্রথম যখন ছাপাখানা এল, তখন সবাই বলত গঙ্গা জল ছিটিয়ে লেখা পড়তে হবে, এখন বাংলাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার মুরু হয়েছে , তখন অনেক প্রগতিশীল লেখক বলেন আমরা ওয়েবে লিখি না। ভাগ্যিস বলেন না ওয়েবে গঙ্গাজল ছিটাতে হবে।

“আগে বুদ্ধিজীবীরা কথা বলতেন আর তা শুনে শিষ্যরা তা প্রচার করতেন। এখন বুদ্ধিজীবীরা কথা বলেন আর শিষ্যরা তা শুনে অন্যদের মন্তব্য শুধু জেরা নয় গুরুর কথাই ঠিক তা বলতে বাধ্য করেন।

“আমাদের দেশে দুই ধরনের মার্কসবাদের চর্চা হয়। একটি বিক্রিত, আরেকটি বিকৃত।

“উইলিয়াম-কেটের চুম্বন দেখে আমার ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়েছে।

“আমাদের দেশের কবি-সাহিত্যিকরা এতটাই মেধাবী যে তার ভাষা আলাদা এটা বুঝানোর জন্য সে আঞ্চলিক ভাষার আশ্রয় নেয়।

“পাঠ্যপুস্তকে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র লালসালু উপন্যাসটি স্থান পাওয়ায় মাজারপন্থী ধর্মব্যবসা কুনজরে পড়েছে, কিন্তু আমিনীদের মত শরিয়তপন্থী ধর্মব্যবসা সুনজরে পড়েছে।

“ভারতে নিপীড়িতের পক্ষের লেখিকা অরুন্ধতি রায়ের সমাবেশে হামলা চালান হয়, সেই হিসেবে ইউরোপের তুলনায় ভারত ১০০ বছর পিছিয়ে। বাংলাদেশে নিপীড়িতের পক্ষের লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে নির্বাসিত করা হয়েছে। কোন সরকারই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সাহস পায় না । সেই হিসেবে বাংলাদেশ ৫০০ বছর পিছিয়ে।

“আওয়ামীলীগ ও বিএনপির আদর্শগত ঐক্য হল – বিএনপি জামায়াতকে সাথে নিয়ে নিজেকে মুসলিম হিসেবে জাহির করে, আর আওয়ামীলীগ বলে যে আমরা তো আগে থেকেই মুসলীম লীগ।

“ইউনূস আর যাই করুক, সমাজসেবা যে সমাজব্যবসা এটি প্রমাণ করে ছেড়েছেন। এজন্য তাকে বাহবা দেওয়া উচিত।

“বাংলাদেশের রাজনীতি নিকৃষ্ট হলে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের (রিউমার পত্রের) সকল সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, সংবাদ বিশ্লেষণ নিকৃষ্টতর।

“বাংলাদেশে জনপ্রিয় নেতা মানেই যেমন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তেমনি জনপ্রিয় সাহিত্যকে জনসাহিত্য হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে, যদিও জনপ্রিয় সাহিত্য আর জনসাহিত্যের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

“আগে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হতে চাইত সবাই স্বাধীন চিন্তার জন্য, এখন পরাধীন চিন্তা দূরের কথা, অন্যের পদলেহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়।

“পৃথিবীর সব দেশেই সংস্কৃতিসেবার আড়ালে থাকে পর্নোব্যবসা।

“বাংলাদেশে প্রগতিশীলদের ঘারে সবসময়ই একটি ভূত ঘুরে বেড়ায়। ভূতটির নাম বাঙালি মুসলমান।

“বাংলাদেশে নিউজপেপার বলে কিছু নেই, যা আছে ওটা রিউমারপেপার

“নিষিদ্ধ করতে চাওয়াই মানে ফ্যাসিস্ট আচরণ – যেমন পর্ণোগ্রাফী”

“ফেসবুকে ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, বাংলাদেশপন্থী ইত্যাদি শুনতে শুনতে www এর মানে যে world wide web এটাই ভুলে গিয়েছি।”

আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত বেশ্যারাই নিজেদের নারীবাদী বা তসলিমা নাসরিন বলে দাবি করেন।

আমাদের দেশের নারীবাদীরা যে কোন কিছুতেই এত বেশি নারী প্রসংগ নিয়ে আসেন যে নারী বিষয়টিই হাস্যকর হয়ে উঠে।

“সেদিন আমাকে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-বন্ধু বলল, ক্যাম্পাসে তোর সাথে ঘুরতে আমার ভয় লাগে। আমি প্রথমে চুপ মেরে গেলাম। তারপর তার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, আমি তো আর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি না। তাতেও ভয়। ক্যাম্পাসে থাকার সময় না হয় আন্দোলন- সংগ্রামে থাকার কারণে আমার সাথে মিশতে অসুবিধা হত। কিন্তু এখন তো সে শিক্ষক। মনে মনে ভাবছিলাম, এই মেরুদণ্ডহীন জীবন নিয়ে মানুষ কিভাবে বাঁচে। আমি রিক্সাটা অন্যদিকে ঘুরাতে বলে বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিলাম। জয়তু সভ্যতা। –

“বন্ধুকে বললাম, দোস্ত আমাদের দেশে বুদ্ধিজীবী হওয়ার সহজ রাস্তাটি কি বলত? বন্ধু বলল- এটা বুঝিস না। তোর যা মনে আসে তাই-ই হয় সাধু ভাষায়, একটু সংস্কৃত শব্দের আধিক্যে বা একটু আরবি-ফারসি শব্দের আধিক্যে এমনভাবে বলবি যাতে কেউ না বুঝে; এতে দেখবি সবাই মনে করবে এ অনেক কিছু জানে, না জানি কিসব লিখছে, সে বহুত বিদ্বান লোক। -তুই বুদ্ধিজীবী হইয়া গেলি।

“আওয়ামী লীগ কখনই মুসলীম লীগ হতে পারবে না।

“আগে ভাবছিলাম পুরস্কার হচ্ছে পতনের রাস্তা, তারুণ্য তার বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে; এখন দেখছি পুরস্কার হল সিঁড়ি। তারুণ্য কেউ পুরস্কার পেলে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে।

“তরুণ প্রবন্ধকারদের প্রবন্ধ দেখলে মনে হয় পরীক্ষার খাতায় কোনও পরীক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর।

“বাংলা সিনেমায় অতি প্রিয় মোটা নায়িকা আর বেশি লেখা বা বেশি বই প্রকাশের সাথে কোথাও একটা মিল আছে।

“আগে কেউ নারীবাদী জানালে জিজ্ঞেস করতাম কোন সংস্থায় কাজ করেন, এখন কেউ নারীবাদী জানালে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে কত জনের সঙ্গে শুয়েছেন।

“অধিকাংশ মেয়ে প্রেমে প্রতারিত হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা না করে আত্মহত্যা করতে পছন্দ করে। সম্ভবত আত্মহত্যায় প্রেমের পরিমাণ বেশি।

“বন্ধুকে বললাম, একটা জিনিস খেয়াল করছিস। সম্প্রতি কিছু বুদ্ধিজীবী আওয়াজ দিচ্ছে ছেলে-মেয়েরা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বড়দের মান্য করে না। ফেসবুকে শুধু কুতর্ক হয়। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লেগে থাকে। এরকম কথা বলে বেড়াচ্ছে। এদের কি কোনও রোগ হয়েছে দোস্ত? বন্ধু বলল, হ এটা তো রোগই। এর নাম হল পিরিতি রোগ। আমি বললাম , মানে? বন্ধু বলল, তুই ওদের সবকিছুতে এখন প্রশংসা করবি। সবাইকে তাই করতে বলবি। ওরা চোখের সামনে খারাপ কাজ করলেও দেখবি না। কিছু বলবি না। শুধু বড় ভাই বলে বলবি আমারেও চান্স দিয়েন। তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

“একনায়কতন্ত্র (সর্বহারার একনায়কতন্ত্র) শব্দটি মুছে ফেলছে ভারতের মার্কসবাদী দল সিপিএম। বাংলাদেশের মার্কসবাদী পার্টিগুলোর নেতাতন্ত্রের জায়গাটাও ভাবা উচিত।

“আগে জানতাম ছাত্ররা বাম আন্দোলন করে বড় এনজিও কর্মকর্তা হবার লোভে, এখন জানলাম বিপ্লবী ব্লগার আর কর্পোরেট বিরোধী ব্লগার হয় কর্পোরেট পুরস্কার পাবার লোভে।

“ভাবছি একটা সাহিত্য পুরস্কার চালু করব। এখানে ১ লাখ টাকার বদলে সাহিত্যিকদের এক রাতের জন্য বেশ্যা দেওয়া হবে। নাম থাকবে ঢাকা বেশ্যা সাহিত্য পুরস্কার।

আগে আমি আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি এনজিওতে কাজ করতাম তখন অনেকেই আমাকে বলত আদিবাসী ব্যবসায়ী, এর কিছুদিন পরে আমি নারীবাদী এনজিওতে কাজ করা শুরু করি। তখন থেকে আজ পর্যন্ত কেউই আমাকে বলেনি – আমি নারী ব্যবসায়ী।

“বার্ড ফ্লু এক আজব রোগ এটা দেশ থেকে সহজে যায় না; আর হইলে মুরগির দাম কমে যায়।

“আমাদের দেশে আওয়ামীলীগ-বিএনপি করে গোয়েন্দা সংস্থা আর দূতাবাসের রাজনীতি আর বামেরা করে আওয়ামীলীগ-বিএনপির রাজনীতি।

“আগে মন ভাল না থাকলে কখনও কখনও কবি বা আবৃত্তিকার খুঁজতাম, অনুরোধ করতাম কিছু শুনানোর; এখন কবি বা আবৃত্তিকার কাউকে দেখলে পালানো ছাড়া কোনও উপায় থাকে না।

বন্ধুকে বললাম, দোস্ত কবিরা যে এখন ভার্চ্যুয়াল সন্ত্রাসবাদী দল গঠন করেছে এই বিষয়টি জানিস? বন্ধু বলল, হ্যাঁ সেদিন দেখলাম মজনু শাহ্ নামক এক কবির কু কীর্তি নিয়ে আকাশ লীনার দেওয়া এক স্ট্যাটাস শেয়ার দেবার পর তানিম কবির নামক এক অর্বাচীনের গালিগালাজ। অত:পর এই গালিগালাজের পর তুই যখন গালি দেওয়া শুরু করলি তখন তানিম কবিরকে দিয়ে তার গালিগালাজগুলো উঠিয়ে দেওয়া হল আর লোকজনকে দেখানো হল দেখ দুপুর মিত্র কেমন গালি দিল ভার্চ্যুয়াল সন্ত্রাসবাদী দলের প্রধান মানে মজনু শাহকে। আমি বললাম, ঠিকই বলেছিস বন্ধু মজনু আর গালিব মিলে যে দল গঠন করেছে প্রথম আলোর বেক আপে সেটা রীতিমত ভয়েরই। সেখানে এক অধ্যাপককেও দেখা গেল মজনুর স্তুতি গাইতে। বন্ধু বলল, হুম ঠিকই বলেছিস। তবে এই দল বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয় না। মজনু দেশে ফিরলেই দুই দল তৈরি হবে। আর সন্ত্রাসবাদী দলে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, মারপিট এসব তো স্বাভাবিক নিয়ম।

“”বাঙ্গালি যে একটা বিশৃংখলতাপ্রিয় জাতি তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ঢাকার রাস্তা।

“আমাদের পার্লামেন্টে বড়জোড় অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়, ভারতের মত তো আর পার্লামেন্টে বসে পর্নো দেখা হয় না।

“বন্ধুকে বললাম, কেউ খারাপ কাজ করায় গালি দিলে লোকজন তা সহ্য করা না কেন? যেমন ধর বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীরা মানে নয়া বুদ্ধিজীবীরা। কেমন ইনিয়ে বিনিয়ে ভদ্র ভাষায় কি কি বলা যেন তারা পছন্দ করে। এমন কি যে এই খারাপ কাজের ভিকটিম সেও। বন্ধু বলল, যে ভিকটিম সেও আসলে গোপনে খারাপ কাজ করতে চায়, যারা পছন্দ করে না তারাও গোপনে খারাপ কাজ করতে চায়; যে কারণে এর ফয়সালা ভদ্রজনোচিত ভাবেই করতে চায়। যাতে করে ভবিষ্যতে এইসব গোপন কাজে কেউই বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। –

“বন্ধুকে বললাম, বন্ধু শেরাটনেও যাওয়া যায় আবার বস্তিবাসীর নেতাও হওয়া যায়; আওয়ামীলীগ-বিএনপিও খাতির করবে আবার মেহনতি জনগণের নেতাও বলবে লোকজন, সুন্দর একখান বউ ঘরে রাখা যাবে আবার উদারনৈতিক বান্ধবীও হবে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও ডাকবে আবার মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদে গলা ফাটানো যাবে; এরকম কিছু কি সম্ভব আদৌ? বন্ধু বলল, সম্ভব মানে আশপাশের মেহনতি নেতাদের দিকে ইকটু তাকাও না দোস্ত।

“আমাদের দেশে নারী স্বাধীনতা নামে যা চর্চিত হয় তা নারীর নারী স্বাধীনতা নয়, পুরুষের নারী স্বাধীনতা।

“ইভটিজিং বিরোধী আইন আগে থাকলে কৃষ্ণের আর লীলা খেলা হত না।

“বন্ধুকে বললাম, বলত দোস্ত ক্ষমতাবান কবি কিভাবে হওয়া যায়? বন্ধু বলল, কিছু মনে করিস না আগে ক্ষমতাবান কবি বলতে বুঝতাম লেখায় কোনও ক্ষমতা আছে কিনা, এখন আর তা মনে হয় না। ক্ষমতাবান কোনও দৈনিকের সরাসরি কোনও চেলা এত প্রকাশ্যভাবে আগে কখনও দেখি নাই। এখন মনে হচ্ছে ক্ষমতাবান দৈনিকের লেজুড়বৃত্তি করলেই ক্ষমতাবান কবি হওয়া যায়।

“বন্ধুকে বললাম, দোস্ত আমেরিকা তো বাংলাদেশে আইয়া পড়ছে। এহন কি করবি?

বন্ধু বলল, কি কস, তাইলে তো ভালাই। আর কষ্ট কইরা আমেরিকা যাওন লাগব না।

“আজ আমার এক বন্ধু আমাকে বলল, আচ্ছা তোর যে এত জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব ফেসবুকে। তোকে নিয়ে বা তোর বই নিয়ে, লেখা নিয়ে কোথাও তো কোনও আলোচনা- সমালোচনা দেখি না। আমি বললাম, দোস্ত আমাদের দেশের যারা সাহিত্য সম্পাদক তারা সবাই ছেলে। আমি যেহেতু সমকামী নই তাই ওদের সাথে শুইতে পারি না।

“আজ আমার এক বন্ধুকে বললাম, আচ্ছা দোস্ত বলত আওয়ামী মুসলীম লীগ, প্রগতিশীল মুসলিম, মুসলিম লেখক এরকম তকমাধারীদের চেনার সহজ উপায় কি? বন্ধু বলল, এত সহজ, দেখবি কিছু লেখক/প্রগতিশীল আছে যারা পশ্চিমবঙ্গের দাদাদের পা ধুয়ে জল পান করে ; কিন্তু বাংলাদেশী দাদাদের পারলে মুখের উপর থু থু ছিটোয়।

বন্ধুকে বললাম, ৪০ বছরের নিচের তরুণদের নিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প শুরু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে খেয়াল করেছিস। সেখানে নানা রাজনৈতিক ঘরানা পত্রিকার মাধ্যমে একটা কিছু করতে চাচ্ছে এই যেমন ধর ডেইলি স্টার। এ বিষয়ে তোর কি মনে হয়? বন্ধু বলল, হুম দেখেছি ওখানে ড্রাইভার, সিকিউরিটি অফিসারেরও প্রোফাইল দেখলাম। তবে এই প্রকল্পে ব্যাপক ইনভেস্টমেন্ট আছে বোঝা যাচ্ছে। একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে এই ৪০ বছরের নিচের তরুণরাই যথেষ্ট। জানি না কি হবে। তবে ৭১ এর আগে যাদের জন্ম তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা আর ৭১ এর পরে যাদের জন্ম তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার একটা বিরাট ফারাক রয়েছে। ইতিহাস, চেতনা, রাজনীতি, এসব নানা বিষয়ে নতুন আঙ্গিকে ৭১ এর পরে যাদের জন্ম তাদের তৈরি করার প্রকল্পটা একটা নাড়া দেবে নিশ্চয়ই। কিন্তু কোন দিকে যে যাবে, কিভাবে যাবে, এক পর্যায়ে দেউলিয়াপনা শুরু হয়ে যায় কিনা সেটাও বেশ ভাবনার।

“বেশ্যার দালাল আর সাহিত্য পাতার দালালের মধ্যে কোনও ফারাক নাই।

“আজ আমার এক বন্ধুকে বললাম, জানিস দোস্ত, সেদিন একজন এমনভাবে সাহিত্য সাময়িকীর সমালোচনা করল যে, আমি ভেবেছিলাম সে বোধহয় সত্যি সত্যি সমালোচনা করেছে, ভেবেছিলাম সত্যি সত্যি সাময়িকীটি তার ভাল লাগে না; কিন্তু দোস্ত এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তার লেখা সমালোচনা করা সাময়িকীতেই দেখতে পেলাম। একে কি বলা যায়? বন্ধু বলল, দোস্ত টাউট-বাটপারে দেশ ভইরা গেছে মানে এই দেশের ভিতরে সাহিত্য সাময়িকীও আছে।

“টিভি নাটকের ব্যাপকতায় মঞ্চাভিনেতারা যেমন বিব্রত অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলেন; আমার মনে হয় ব্লগ আসার পর লিটলম্যাগ ও প্রচারবিমুখ লেখকেরা সেই একই রকম অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন।

“আজ আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা দোস্ত বলত ব্লগীয় গল্পকার আর লিটলম্যাগের গল্পকারের মধ্যে পার্থক্য কি? বন্ধু বলল, ধর গল্পে একটি যৌন দৃশ্যের বর্ণনা। ব্লগীয় গল্পকার এই বর্ণনা এত নগ্নভাবে দেবে যে এতে পাঠকের কোনও অনুভূতিই জাগবে না বা মানে হবে এত ক্লিশে কেন, সাহিত্য কি রসহীন হয়ে উঠছে; আর লিটলম্যাগের গল্পকার এই দৃশ্য এমনভাবে বর্ণনা করবে যে প্রায় সবারই বুঝতে অসুবিধা হবে এটা কোনও যৌন দৃশ্যের বর্ণনা না মরুভূমির বর্ণনা না অন্য কিছু।

“সম্প্রতি কিছু বাম, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের ভাষা বিষয়ক আলাপে খেয়াল করলাম, তারা বলতে চান তার ভাষাটাই মানে বাংলা ভাষাটাই তার চেতনা, বাংলা ভাষাটাই সে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই যদি হয় কারও চেতনা, অস্তিত্ব; তাহলে পৃথিবীর অজস্র ভাষা আর চেতনা আর জ্ঞানের ভেতরে তার জায়গা মানে বাংলা ভাষার জায়গা কতটুকু হতে পারে এই নিয়ে রীতিমত আমি বিচলিত হয়ে পড়লাম।

“ভাষার পবিত্রতা বিষয়ক সাম্প্রতিক বিতর্ক দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীতে ধর্মগ্রন্থ ছাড়া আর কোনও কিছু পবিত্র থাকতে পারে না।

“লেখকদের কোনও লিঙ্গ থাকে না।

অতিমাত্রিক যৌন উত্তেজনার কারণেই মূলত পুরুষেরা নারী বিদ্বেষী হয়ে উঠেন।

“পুরুষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল উনারা নারীবাদী-পুরুষবাদী একই সাথে হতে পারেন। এ হিসেবে পুরুষদের উভলিঙ্গী বলা যায়।

“অনেক পুরুষই প্রতিদিন অফিসে এসে স্ত্রী সহবাসের কথা বেশ মজা করে বলেন। ওদের দেখলে আমার মনে হয় জীবনের সমস্ত ব্যর্থতার ক্ষোভ তারা রাতে স্ত্রীর গায়ে ঢালেন।

“আগে জানতাম লেখক-কবি বিখ্যাত হয় ভাল বই লেখার কারণে, এখন দেখছি লেখক-কবি বিখ্যাত হয় টিভিতে নিউজ প্রেজেন্ট করে।

খ্যাতিমান পুরুষের বউয়ের বই বেশি প্রশংসিত হলেও বিক্রি বেশি হয় না।

“মার্কসীয় মৌলবাদী আর ধর্মীয় মৌলবাদীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই।

“আজ আমার এক বন্ধুকে বললাম, দোস্ত বাংলাদেশে তসলিমা পন্থি নারীবাদীদের ক্ষমতা সম্পর্কে তোর কোনও ধারণা আছে। বন্ধু বলল, আমার এক প্রকার বিশ্লেষণ আছে। ওরা ভয়ানক ক্ষমতাধর আর সেটা পুরুষের সংশ্লিষ্টতা থেকেই। তোর বিষয়টা বল। আমি বললাম, না তুই জানিস না, ওরা যে কোনও সময় যে কারও ক্ষতি করতে পারে এবং এই ক্ষতির পরিমাণ ভয়ংকর। আমি ওদেরকে বলেছিলাম আপনারা এত ক্ষমতাধর আর আমি এত দুর্বল সে হিসেবে আমি নারীবাদী আর আপনারা পুরুষবাদী। তারা আমার কথায় হাসল। আমি ভারলাম এইবার সুযোগ পেয়েছি এত ক্ষমতাধর, এইবার নিশ্চয়ই তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটা কিছু করা যাবে। আমি তাদেরকে আন্দোলনের অনুরোধ করলাম। ওরা নিশ্চুপ থাকল।

“নারী মডেল আর লেখিকার মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই কমে আসছে। উভয়েই শরীর দেখাতে চায়, একজন সরাসরি আরেকজন লেখায়।

“আমাদের দেশের মেয়েদের তসলিমা নাসরিন টাইপের নারীবাদী হতে চাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তসলিমা এক জীবনে অনেকগুলো বিখ্যাত পুরুষের শোবার ঘরে যেতে পেরেছিলেন, যা বাঙাগালী নারীদের জীবনে বিরল।

“ইদানিং কিছু পুরুষ নারীবাদী গজিয়েছে যাদের উদ্দেশ্য থাকে নারীবাদী কথা বলে সুন্দরী মেয়েদের ফুসলানো ।

“আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত বেশ্যারাই নিজেদের নারীবাদী বা তসলিমা নাসরিন বলে দাবি করেন।

“বন্ধুকে বললাম, আচ্ছা সবাই যে বলে বাংলাদেশ ভারতের প্রদেশ এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নাই;তাইলে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী আমাদের গুলি করে কেন? বন্ধু বলল- এটা বুঝিস না, বাংলাদেশ যে ভারতের প্রদেশ না এটা মনে করিয়ে দেবার জন্য।

বন্ধুকে বললাম – বন্ধু বলতো বিপ্লবীরা কখন গরু চোরাকারবারীর পক্ষে স্লোগান দেয় ? বন্ধু বলল- এত সহজ উত্তর। ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী যখন তাকে গুলি করে।

“ব্লগ মডু আর পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে মিল হচ্ছে দুইটাই দালালি ও তোষামোদি পছন্দ করে আর অমিল হচ্ছে পত্রিকার সম্পাদকরা মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে দালালি করে আর ব্লগ মডুরা কলেজের বখাটে ছেলে বা পাতি মাস্তানদের সঙ্গে।

“আমাদের দেশে দুই শ্রেণীর বলদ কবি আছে। এক শ্রেণী একজনের বিষ্ঠা খেয়ে বড় দৈনিকে লেখার সুযোগ পায়, আরেক শ্রেণী সেইসব বলদ কবিদের বিষ্ঠা খেয়ে যদি কোনো দিন লিখতে পারে সেজন্য আশায় আশায় ঘুরে।

“আচ্ছা দোস্ত একটা কথা বলত-জাবির জুবায়ের হত্যা আন্দোলনের সাথে মাহাত্মের কি সম্পর্ক? বন্ধু বলল- দেখ কিছু মনে করিস না,দুই ছাত্রলীগ মারপিট কইরা একজন মরছে। এটাই তো স্বাভাবিক। এখানে মাহাত্মের কি আছে? আর ছাত্ররা আন্দোলন করছে- নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তাদের শঙ্কিত হওয়ারই কথা । তবে শিক্ষকদের মধ্যে এই নিয়ে ভিসি পন্থি-ভিসি বিরোধী গ্রুপের সংঘর্ষ হবেই। কেননা এর সাথে তাদের স্বার্থ জড়িত। আর প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে… এ ঘটনায় খারাপ লাগা কাজ করবেই। । তবে প্রাক্তন ছাত্রদের কাছে এখানে মার্কসীয় বল প্রয়োগের নামে ধান্দাবাজি বল প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু আশা করাটা ঠিক হবে না। কেননা এদের মধ্যে কেউ হয়ত শিক্ষক হওয়ার জন্য বা অন্য সুবিধা নেওয়ার জন্য এটা করছে,তাদের নিশ্চয়ই এখন ছাত্রলীগের হাতে মাইর খাওয়ার ভয় নাই।

“বন্ধুকে বললাম, আচ্ছা দোস্ত আমাদের দেশের কোনও পত্রিকা পড়লে নিউজ ভ্যালু খুঁজে পাই না কেন। বন্ধু বলল, তোমাদের দেশের পত্রিকার নিউজ এডিটররা আগে প্রুফ রিডারের কাজ করত এজন্য।

“বন্ধুকে বললাম, দোস্ত আজ নাকি বাম শিবিরে কান্নাকাটি। নারায়ণগঞ্জে নাকি বেধরম মাইর খাইছে। কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম না – গোলাম আযমের গ্রেপ্তারের দিন ওরা এরকম মিছিল বের করল কেন। বন্ধু বলল – আরে এক একটি রাজনৈতিক ছক পরিবর্তন হতে অনেক সময় লাগে। আর বৈদেশিক নীতি কখনো হুটহাট করে পরিবর্তিত হয় না। তুই কি ভেবেছিস স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার মস্কো-পিকিং দ্বন্দ্বের অবসান হয়ে গেছে?

“আমার এক বন্ধুকে বললাম- দোস্ত একটা জিনিস খেয়াল করছিস। জামায়াত আর বিএনপি একসাথে প্রোগ্রাম করলেও জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে কোনও এজেন্ডা বা ফেস্টুন-পোস্টার থাকলে বিএনপি জামায়াতকে সেসব নামিয়ে ফেলতে বলে, এমনকি এ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষও বেধে যায়। এটা কেন হয়। বন্ধু বলল – তুই আসলেই বোকা। কেউ কি কখনও দিনের বেলা ন্যাংটো হয়।

“আজ আমার এক বন্ধুকে বললাম, দোস্ত বলতো ছাত্রলীগ করে কাউকে মেরে ফেলার সুবিধা কি ? বন্ধু বলল- কেন জানিস না, ছাত্রলীগ করে কাউকে মেরে ফেললে, আজীবন বহিষ্কারের সাজা হয়, কিন্তু ফাসি বা আজীবন জেল হয় না। এজন্য পেশাদার খুনীরা এখন আওয়ামীলীগ করে না, করে ছাত্রলীগ।

“ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হচ্ছে সে মেয়েদের ধর্ষণ করতে পারে।

“ব্লগে মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে হচ্ছে জাফর ইকবালকে পছন্দ হয় না তাই জাফর ইকবালের মেয়ে কি কি করে তা ব্লগে ছবি সহকারে ছড়িয়ে দেওয়া।

“আমাদের দেশের সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সুখ হল তারা সচিব,মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বা সচিব -মন্ত্রীরা তাদের সাথে হেসে কথা বলেন।

“আমাদের দেশে সব বড়ভাই- আপামণিরা স্টারপ্লাস আর জি সিনেমা দেখে বাসায় বসে। তাই হলে ভারতীয় কিছু দেখানো যাবে না।

“আগে ভাবছিলাম জমি দখল করলেই কি আর মিডিয়া দখল করা যায়, এখন দেখছি জমি দখল আর মিডিয়া দখলের মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই।

“আজকে আমার এক বন্ধুকে বললাম বন্ধু টিপাইমুখ বাধের কারণে এখানকার প্রাণ বৈচিত্র-পশু -পাখি নদী সবই নাকি মইরা যাব। এটা তারা নাকি হইতে দিব না প্রয়োজনে জীবন দিব। বন্ধু আমাকে বলল ঢাকা শহরের শিল্প কারখানার দূষণে বুড়িগঙ্গা তো মইরা গেল। এজন্য কি কেউ শিল্প-কারখানা বন্ধ করছে বা করতে চাইছে এই সব বামেরা।

“বাংলা নববর্ষ ও ইংরেজি নববর্ষের মধ্যে পার্থক্য হল বাংলা নববর্ষে মেয়েরা লাল পাড়ের শাড়ি পড়ে, সবাই পান্তা-ইলিশ খায়, আর ইংরেজি নববর্ষে মেয়েরা শাড়িই তেমন পড়ে না আর সবাই মদ খায়। –

“আগেই ভাল ছিল নববর্ষের শুভেচ্ছায় অনেক সুন্দর সুন্দর কার্ড আর উপহার আসত বাসায়, এখন ফেসবুক আসায় উপহারগুলোও ডিজিটাল হয়ে গেছে।

“ভারত পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের মিডিয়াগুলোতে বামপন্থিদের নিয়ে কোনও সংবাদই প্রকাশ করে না। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলা ঠিক কি কারণে এসব প্রকাশ করে বুঝি না এমন নয় যে তারা রাশিয়া থেকে এখন টাকা পায় তবে চীন থেকে টাকা পেতে পারে। যদিও মাও মারা যাবার পর তার আত্মীয়স্বজনদেরও চীন বাচিয়ে রাখেনি বলে শুনেছি।

“আগে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় নৃ-বিজ্ঞানীরা আমাদের দেশে ডাকাতি করত, এখন আমরা না হয় একটা জাপানি অধ্যাপকের ল্যাপটপ চুরি করেছি।

“গতকাল আমার এক বন্ধুকে বললাম দোস্ত স্বাধীনতা তো সব একটেল, ব্র্যাক আর হিন্দি গান নিয়ে নিল, আমাদের তো কিছু থাকল না। বন্ধুটি বলল কেন তোমাদের জন্য পাকিস্তান আর চীন আছে।

“আজ আমার এক বন্ধুকে বললাম, আচ্ছা দোস্ত সম্প্রতি ব্লগ আর ফেসবুকে জাতীয় পতাকা ওয়াল পিকচারে দেওয়ার কারণে অনেক বাম ঘরানার লোকজন সমালোচনা করছেন, এটা নাকি কেবল ফ্যাশনেবল দেশপ্রেম। তোর কি মনে হয়? বন্ধু বলল – তুই কি বলতে পারবি স্বাধীনতা যুদ্ধে ওদের কি অবদান ছিল বা আদৌ স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিল কিনা?

পুরুষরা পরকীয়া করলে নিপীড়ক আর নারীরা পরকীয়া করলে নারীবাদী।

“আগে জানতাম যারা ভারত বিরোধিতা করে তারা রাতের বেলায় কলকাতায় আড্ডা দেয়, এখন জানলাম যারা প্রথম আলো বিরোধিতা করে তারা রাতের বেলায় প্রথম আলোর গলিতে আড্ডা দেয়।

দক্ষিণপন্থি বুদ্ধিজীবি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল বুদ্ধিজীবিটির কোনও প্রাইভেট কার আছে কিনা। আর কোনও তরুণ দক্ষিণপন্থি বুদ্ধিজীবি কিনা তা বোঝার সহজ উপায় হল সে দক্ষিণপন্থি বুদ্ধিজীবিদের প্রাইভেট কারে বসে ঘুরে বেড়ায় কিনা।

“বামপন্থি বুদ্ধিজীবিদের সুবিধা হল এরা এত বেশি জনগণের পক্ষে লেখেন যে মাঝে-মধ্যে একটি-দুটি আওয়ামীলীগ অথবা বিএনপির পক্ষে লিখলে সহজে চোখে পড়ে না যে তারা কোন দলের দালাল। এতেই তাদের একুল-ওকুল দুকুল রক্ষা হয়ে যায়।

“আগে জানতাম ভালবাসা দুইরকমের একটা হৃদয়ের আরকেটা শরীরের, এখন জানলাম ভালবাসা দুইরকমের একটা শরীরের আরেকটা অনলাইনের।

“হুমায়ুন আহমেদ আর শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে মিল হল দুজনের বইই বাংলার যে কোন ঘরে পাওয়া যায় আর পার্থক্য হল শরৎ আজীবন সে সময়ের এলিট সোসাইটি ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে লড়েছেন আর হুমায়ুন আজীবন এলিট সোসাইটির সাহায্য নিয়ে টিকে আছেন।

দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকদের নিয়ে আমার বরাবারই একটা কৌতুহল ছিল। এবার এটা আরও মজার রূপ ধারণ করল। আমার এক বন্ধু বলল, সে বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করেছে এটা সে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকদের হাতে হাতে দিয়েছে। সাহিত্য সম্পাদক এমন ভাবে নাকি তার দিকে তাকিয়েছে যে তারা সম্ভবত বিশ্বাস করতে পারছে না সে কিভাবে ইংরেজি থেকে বাংলা করবে। এটা বুঝে ফেলার পর সে বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে যে খবর পেল দৈনিক পত্রিকার এই সম্পাদকগুলো এইচএসসিই পাস করেনি । তার মধ্যে এই ভীতি থাকবেই। বা সহজেই নাম করা লোক ছাড়া কাউকে সে বিশ্বাস করতে পারবে না যে সে পড়াশুনা আদৌ করে কিনা। কেননা সাহিত্য সম্পাদকটিও কখনও পড়ে না। কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন ঘুরঘুর করতে থাকল তাহলে সে সাহিত্য পাতা প্রকাশ করে কিভাবে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারল সে বিভিন্ন পত্রিকায় কার কার লেখা ছাপা হয়েছে সেই নামগুলো মুখস্ত করে। আর লেখকরা তো দৈনিক পত্রিকায় লেখা দেওয়ার কাঙ্গাল। ফোন করলে বা দেখে করতে বললেই লেখা পেয়ে যায়। এরপর থেকে সে সাহিত্য সম্পাদক শব্দটি কেরানির সমার্থক শব্দ কিনা এটা ভাবতে লাগল।

“”আমাদের দেশের বামপন্থিরা হলেন তারেক জিয়া আর সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে জনগণের বিবাহ প্রস্তাব দেওয়ার ঘটক।

“ডান কিম্বা বাম নয়, আন্দোলনের সঙ্গে যে এখন ব্যবসার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় তা বোঝাতে এত সময় লাগবে ধারণা ছিল না।

“রামকিঙ্করের করা রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যটি কেন এত কাল, কুতসিত, বীভতস ; কেন জমিদারের মত নয় ; কেন এত দু:খভারাক্রান্ত, ন্যুব্জ এক মানুষ। রামকিঙ্করই তাহলে রবীন্দ্রনাথকে চিনেছিলেন। শেষ বয়স পর্যন্ত তার প্রিয়জনরা একে একে মারা গেলেন। সবার দু:খ বয়ে বেড়ালেন একা। ইনিই রবীন্দ্রনাথ! আমরা তাহলে তাকে চিনি না, আমরা তাহলে তার দু:খকে বুঝিনি।

“আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নিয়ে বামদের চেচামিচি শুনতে শুনতে ইদানিং আমার তার সাহিত্যকে প্রোপাগান্ডিস্ট সাহিত্য ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।

“ভার্চ্যুয়াল ওয়ার্ল্ড আসলে একটা গেইমের মত আর নায়ক এখানে প্রোটাগনিস্ট।

“ছেলেদের প্রেম অনেকটা প্রগতিশীল মেয়েদের মত। দিনে ৫ বার ৫ জনের সঙ্গে ৫ রকম।

আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত লেখক আর তরুণ লেখকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত লেখকেরা কোনো একটা সন্ত্রাসী দলের গডফাদারের মত আর তরুণ লেখকেরা সেই দলের ছিচকে মাস্তানের মত।

“ঐশ্বরিয়ার মেয়ে হয়েছে, সবাইকে বেশ খুশী দেখলাম, ভক্তরাতো বটেই। অথচ হিন্দুদের মধ্যে আজও একটা রেওয়াজ আছে ছেলে বাচ্চা হলে নারীরা ৫ বার উলুধ্বনি দেন আর মেয়ে বাচ্চা হলে ৩ বার।

“বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেখা যায় চারদিকে শুধু ইসলাম ব্যবসা আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেখা যায় চারদিকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসা। এই হিসেবে বলাই যায় বাংলাদেশে দুই ধরনের ব্যবসায়ী আছে। এক. ইসলাম ব্যবসা ২. মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসা।

“আমাদের দেশে প্রথম যখণ মোবাইলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হল, তখন মোবাইলকে কত বাজে ও নোংরা ভাবে ব্যবহার করা যায় তার নমুনা দেখতাম, এখন যখন ইন্টারনেট, ব্লগ ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে, তখনও দেখা যাচ্ছে একে কত বাজে ভাবে ব্যবহার করা যায় ; এই হিসেবে বলাই যায় বাঙ্গালি জাতির একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা পর্ণোগ্রাফী।

“জামায়াত ও বামের এনজিওকেন্দ্রিক পার্থক্য হল একজন অর্থনীতির জায়গা থেকে এনজিও বিরোধিতা করে আরেকজন ধর্মীয় জায়গা থেকে এনজিও বিরোধিতা করে। এ হিসেবে দু দলের যুগপদ আন্দোলন হলে খারাপ হয় না।

“আগে বাপের জমিদারি বিক্রি করে বিপ্লব করতে করতে জমিদারের ছেলে-মেয়েরা ফতুর হতেন, এখন বিপ্লব করতে করতে লোকজন বড় বড় এনজিও কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মকর্তা হন।

“আমাদের দেশে জাতীয় স্বার্থে ব্লগার-অনলাইন এক্টিভিস্ট নামক একটি প্ল্যাটফর্মের নর্তন কুদন দেখে মনে হয় বহুজাতিকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াই করছে বহুজাতিকেরাই। কেননা ফেসবুক, ব্লগ, ব্লগজিন ও অনলাইন এক্টিভিজম বহুজাতিক সংস্কৃতিরই একটি বড় নমুনা।

“আগে জমিদারদের ছেলে, ভাই, আত্মীয়-স্বজনরা বড় বড় (?) বামপন্থি নেতা হতেন, এখন সচিবের ছেলে,ভাই, আত্মীয়-স্বজনরা বড় বড় (?) বামপন্থি নেতা হন।

“করলে দোষ নাই, বললেই দোষ।

“পিপীলিকা দেখে যেমন ঝড়-বৃষ্টির আভাস পাওয়া যায়, তেমনি ব্যবসায়ীদের দেখে বোঝা যায় কোন সরকার আসবে।

“আমাদের দেশে সংবাদপত্রে সংবাদ নামে যা ছাপা হয় তা আসলে উঁচু মানের সাহিত্য কর্ম।

“ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চারাই মেধাবী হয়।

“হারিয়ে যাওয়া মুখগুলোই একসময় আপন হয়ে উঠে।

“আমাদের দেশের প্রকাশকরা যে হারে বই কিনুন বই কিনুন বলে চিল্লান (তারা নিজেরাই পড়ে কিনা কে জানে), সে হারে যদি বইয়ের দাম কমানোর চেষ্টা করতেন, তাহলে না হয় বুঝতাম প্রকাশকরা চান মানুষ বই পড়ুক।

“সম্প্রতি ফেসবুকেই কতিপয় লেখক,কবিদের যারা প্রিন্ট মিডিয়ার দাসত্ব মেনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, ফেসবুক বা অন্যান্য সোস্যাল অনলাইন মিডিয়া নিয়ে গোস্যা, বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। আর যখনই এটা দেখি তখনই আমার কেন যেন একটা মায়া হয়, কষ্ট হয় এই ভেবে যে বেচারার কান্নাটাকে কেউ আর থামাতে পারবে না।

স্টিভ জবসকে দুইভাবে ভালবাসা যায়। এক. তার কারণে অনেক শ্রমিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। দুই. তিনি চ্যারিটি ফান্ডে টাকা দিতেন না।

“ভারতে ভূপাল গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এ বারের নোবেল বিজয়ী কবি টমাস ট্রান্সটোমার, আমাদের দেশে টেংরাটিলা গ্যাস বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে কি কোনও কবি দাঁড়িয়েছিলেন ?

“যারা কথায় কথায় হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন তাদেরকে সোহেল হাসান গালিব বলা হয়।

“ফেসবুকে কাউকে ব্লক করার ভিতর দিয়ে আমি শ্রেনীশত্রু খতমের আনন্দ পাই।

“আমাদের একমাত্র শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে অবিশ্বাস”

“আমাদের দেশে নারীবাদী ও বামপন্থী যুবক-যুবতীদের তীর্থস্থান হল ছবির হাট।

“এক সময় রাশিয়া লেখকদের সঠিক মত প্রকাশকে বাধা দিতে শুধু দ্বীপান্তরিত বা পাগল বা রিউমার বলা নয়, হত্যা পর্যন্ত করেছে। এখন বাংলাদেশে বামপন্থীরা লেখকদের সঠিক মত প্রকাশকে বাধা দিতে দ্বীপান্তরিত বা হত্যা বা পাগল বলতে পারে না, কেবল রিউমার বলে সরে যেতে পারে ।

“বাংলাদেশে নারীকেন্দ্রিক ভন্ডামির আরেক নাম নারীবাদ।

“আমাদের দেশে রাশিয়া-চীন বাদেও আরও একধরণের ভৌগোলিক বামের উত্থান ঘটেছে। এরা বলছে লাতিন আমেরিকার কথা। শুধু কিছু বামই লাতিন বিপ্লবের কথা বলছে না। বলছে মার্কিনি প্রথম আলোও। চেকে যেমন লাতিন আমেরিকার সব দেয়ালে দেখা যায় চেতনায়-বিশ্বাসে, তেমনি আমেরিকায় দেখা যায় মেয়েদের ব্রা-পেন্টিতে, তেমনি আমাদের দেশে প্রথম আলোতে, সে হিসেবে প্রথম আলো ও কতিপয় বামের লাতিন দর্শন উপভোগ্য ও রোমাঞ্চকর ঠেকতেই পারে।

“বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্প দিয়ে কবি-গল্পকার বানায়, আর কিছু প্রতিষ্ঠিত,অল্প প্রতিষ্ঠিত কবি-গল্পকার-সাহিত্যিকরা ব্যক্তিগত প্রকল্প দিয়ে কবি-গল্পকার বানায়। –

“বাংলাদেশে এনজিও আন্দোলনকে বাম আন্দোলন বলার সুবিধা তিনটা। ১. এতে কিছু মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে পাওয়া যায় ও ২. এতে বিদেশি শক্তির ঘ্রাণ থাকে না। ৩. আর কিছু লোক খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারে।

“বিষ্ণু দেরা রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করতেন তার কবিতার এন্টি ডিকশন তৈরি করার ভিতর দিয়ে। এখন অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করে বা করতে চায় গালিগালাজ করার ভিতর দিয়ে।

মানবাধিকার হরেকরকম। যেমন ইউকে ভিত্তিক মানবাধিকার, ইউএস ভিত্তিক মানবাধিকার, বাংলাদেশ ভিত্তিক মানবাধিকার, ভিনগ্রহ ভিত্তিক মানবাধিকার, জঙ্গলভিত্তিক মানবাধিকার, সমুদ্র ভিত্তিক মানবাধিকার, পুকুর-ডোবা-নালা ভিত্তিক মানবাধিকার, ধানক্ষেত-পাটক্ষেত ভিত্তিক মানবাধিকার প্রভৃতি।

আমাদের দেশে ধর্মভিত্তিক মার্কসবাদের গুরু হলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

“ডলারে মার্কসীয় বিপ্লব করার সুবিধা দুইটা। এক এতে নিজেকে বিপ্লবী বিপ্লবী মনে হয় বা অনেকে মনে করে বলে এক ধরণের সুখ হয় আর দুই এতে সুখ শান্তিতে নির্ঝঞ্জাট অভাব-অনটনহীন নিরাপদ জীবন-যাপন করা যায়।

আন্দোলন আবারও আমাকে অমোঘ বাণী প্রদানে উদ্বুদ্ধ করল। এখন থেকে প্রতিদিন চলবে।বাংলাদেশে সস্তা প্রগতিশীল, ভান ধরা প্রগতিশীল চেনার সহজ উপায় হচ্ছে প্রমাণ ছাড়াই কারও বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো।

বিএনপির জাতীয়তাবাদী সাজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে জামায়াতি মুখোশ আর আওয়ামীলীগের প্রগতিশীল সাজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে মুসলীম লীগের মুখোশ।

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাজাকারের ফাঁসি চাইলে ফ্যাসিবাদ আর আ’লীগের সিনিয়র নেতাদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিলে উগ্র ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী নির্বোধ।

যারা এতদিন ধরে বেহাত বিপ্লব, বেহাত মুক্তিযুদ্ধের ধারণা প্রচার করে চলছেন এবং এখনও করছেন, তারা যে প্রকৃতই অন্ধ শাহবাগ আন্দোলনই তার প্রমাণ। বিপ্লব-মুক্তিযুদ্ধ বেহাত হলে সর্বস্তরের কেউ জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাজাকারের ফাঁসি চাইত না।

শাহবাগ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য চীনা বাদামগুলোকে দিয়েও জয় বাংলা বলানো যাচ্ছে। এবং উনারা জননী জাহানারা ইমাম বলে প্রাণাতিপাত করে ফেলছেন।

আওয়ামীলীগের বুদ্ধিজীবীগুলা এতটাই নির্বুদ্ধিজীবী যে আওয়ামীলীগ যে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান নিজেরা আটকায়ে রাখতে চায় নাই, বরং বিরোধিদলগুলোই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের স্লোগান কাজেই এদের বর্জন করুন বলে আসছে। এটাও তারা বুঝতে পারে না। এই কয়দিনে আওয়ামী তরুণ আর প্রগতিশীল তরুণ বুদ্ধিজীবীদের যে অবস্থা দেখলাম তাতে আওয়ামী আর প্রগতিশীল ঘরানাটার অবস্থা যে নাই হয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না; এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ নাই।

শিবির রাস্তা-ঘাটে মানুষ মারলে ফেসিজম হয় না, কিন্তু রাজাকারের ফাসি চাইলে ফ্যাসিজম হয়।

নাস্তিক্যও একটি ধর্ম।

সংহতি জানালেই কোনও দাবির সঙ্গে একাত্মতা বোঝায় না; উদাহরণ- আমাদের দেশের সবগুলো দৈনিক পত্রিকা ও রেডিও-টিভি মিডিয়া।

যে দেশের প্রধান ও বিরোধীদলসহ প্রায় সব দলের রাজনীতিই ধর্মকে নিয়ে, সে দেশে রাজনীতি বাদ দিয়া ধর্ম-কর্ম করলেই তো হয়।

তৃতীয় বিশ্বে মার্কসবাদ একটি ধান্ধার নাম।

বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তৃতীয় শ্রেনীর লোকেরাই ধর্ম ইস্যু করে বুদ্ধি ব্যবসা করে।

পুঁজির কোনও ধর্ম থাকে না, তরুণ প্রজন্মের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলাদেশের সবগুলো মিডিয়ার ইসলামি ব্যাংকের বিজ্ঞাপন ছাপানো ও প্রকাশ তাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশে ভারত প্রেম একটি গালি, আওয়ামীপ্রেম একটি গালি; মাগার পাকিপ্রেম, আমার দেশ প্রেম, চাইনা প্রেম, লাদেন প্রেম গালি নয়।

বাংলাদেশে ভারত প্রেম একটি গালি, আওয়ামীপ্রেম একটি গালি; মাগার পাকিপ্রেম, আমার দেশ প্রেম, চাইনা প্রেম, লাদেন প্রেম গালি নয়।

আগে জানতাম বাংলাদেশে বাম থেকে শুরু করে যে কেউ বুদ্ধি ব্যবসা শুরু করে সেক্যুলারিজম দিয়ে আর শেষ করে ধর্ম দিয়ে, এখন দেখি এরা সবাই শুরু করে ধর্ম দিয়ে আর শেষ করে এই ধর্মই সেক্যুলার এটা বলে।

যে কোন বিষয়ের ভালো কিছু হওয়ার জন্য সমালোচনাই মূল। ভাল সমালোচনা হলেই ভাল কিছু তৈরি হয়। শিল্প-সাহিত্য থেকে শুরু করে সব জায়গায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের কবি-সাহিত্যিকরা কখনোই তবু সমালোচকদের সহ্য করতে পারেন নি। এখনো পারেন না। তেমনি আমাদের দেশের সরকারি-বিরোধী দলও। সরকারি দল চান না বিরোধী দল সমালোচনা করুক। আর বিরোধী দল এমনভাবে সমালোচনা করেন যে বিরোধী দল একটা ইসলামি দল আর আওয়ামীলীগ একটি ইসলাম-বিরোধী দল। এই কারণে আওয়ামীলীগকেও ইসলামি দল হিসেবেই থাকতেই হয়। মানে মুসলীম লীগের ভিত আরও শক্ত হয়। যতদিন পর্যন্ত এই বিরোধিতার রাজনীতি ঠিক না হবে ততদিন পর্যন্ত ভাল রাজনীতি তৈরি হবে না, তেমনি ভাল শিল্প-সাহিত্যও।

আমরা আজও হিন্দু বাড়িতে হামলা শুরু হলে একে দাঙ্গা বলি। ১৯৪৬ সালের হিন্দু-মুসলমান উভয়ে উভয়ের ওপর হামলা চালাত এটাকে দাঙ্গা বলে আর বাংলাদেশে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বা পূর্ব পাকিস্তান আমলে কখনও কি শুনেছেন বা অন্তত একটি উদাহলণ দেখাতে পারবেন যে হিন্দুরা মুসলমান বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। পারবেন না। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কেবল হামলাই ঘটে। আর হিন্দুরা সেই হামলা সয়ে সয়ে কোনরকমে বেঁচে থাকে। এখানে যা ঘটে তা দাঙ্গা নয়- মুসলমানদের হিন্দুদের ওপর হামলা, নৃশংস হামলা।

বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা সেটা রাজনৈতিক হোক আর যাই হোক কতটা নিম্নমানের কতখানি নিম্নমানের এটা বোঝা যায় দুই দলের রাজনীতি দেখে।

কেউ যখন কাউকে হত্যা করতে আসে, চিন্তায়-সহিংসতায়; সেই হত্যাকারীদের প্রশ্রয়, তার পক্ষে যুক্তি তৈরি ও সেই হত্যা হতে দেওয়ার নাম গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা।

দেশটা আসলেই দুইভাগ হইয়া গেছে। তবে যতটা না মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষে, তারচেয়ে বেশি তরুণ বুদ্ধিব্যবসায়ী দ্বারা ফরহাদ মজহার-সলিমুল্লাহ খানে।

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা একটি মেধাবী আওয়ামী বিরোধী বিরোধী দল নাই।

হরিণ যেমন পেটের গুড়গুড় শব্দে ভয়ে লাফিয়ে ওঠে দৌঁড়ায়, বিএনপিও সেভাবে ককটেলের শব্দে হরতাল দিয়ে দৌঁড়াচ্ছে।

যে দেশে সাঈদীর চাঁদে যাওয়ার গুজব লোকজন বিশ্বাস করেন, যে দেশে পোলিও টিকা খেয়ে শিশু মৃত্যু হয়েছে বলে লোকজন বিশ্বাস করেন, সে দেশে সাঈদীর নতুন বিয়ের গুজবও লোকজন বিশ্বাস করবে।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সকল পলিটিক্যাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টে গুজব ও রাজনীতি নামে একটি কোর্স চালু করা উচিত।

বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করল যে কোনও ধর্মের চেয়ে নাস্তিক্য ধর্ম অনেক শক্তিশালী।

পুকুরে ঝাপাইতে ইচ্ছা করতাছে। কিন্তু ঢাকা শহরে পুকুর নাই, কেবল তুমি আছ।

যে সিভিল সোসাইটি এসি রুমে জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধ চায় সেই সিভিল সোসাইটি যেন শাহবাগে না আসে।

আমরা যুদ্ধ করে মুক্তি চাই, কিন্তু ধর্ম আমাদের আটকে রাখে।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ এটি ফলাও করে বলার মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের তীব্র সাম্প্রদায়িকতাকে ঢাকার চেষ্টা।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা তিন রকমের। এক. বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িকতা- এরা প্রকাশ্যেই এমনকি বিএনপির হরতালেও মন্দির ভাঙচুর করে। দুই. আওয়ামী সাম্প্রদায়িকতা- এরা চুপ করে বসে থাকে। মন্দির ভাঙচুর ও হিন্দুদের ওপর হামলা হলে যাতে একে ইস্যু বানিয়ে রাজনীতি করতে পারে। তিন. বাম সাম্প্রদায়িকতা- এরা হিন্দু মানেই ভারতীয় মনে করে। ভারতের মত গরীব দেশকেও সাম্যাজ্যবাদী দেশ বানিয়ে ফেলে এবং মনে করে বাংলাদেশ যেহেতু ইসলাম ধর্মাবলম্বী বেশি কাজেই মানুষের কাছাকাছি ধর্ম ছাড়া আর কোনও ভাবেই যাওয়া যাবে না। কাজেই সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে ইসলামকে সাথে নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই।

গতকাল একটি স্ট্যাটাসে আমি ভারত গরী্ব দেশ হবার পরও কেন তাদের সাম্রাজ্যবাদী বলা হয় এমন বিষয় অবতারণার পর বেশ কিছু সন্দেহজনক সমাজতাত্ত্বিক আজ স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অর্খনীতির ওপর ভিত্তি করে কেবল সাম্রাজ্যবাদকে দেখা ঠিক না, উনাদের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েই এখন মনে হয় সাম্রাজ্যবাদকে দেখতে হবে।

স্বাধীনতা দিবসে ১০-১২ টা বাস না ভাঙচুর করলে স্বাধীনতার মজা বোঝা যায় না।

অহিংস আন্দোলন দীর্ঘ হয়, এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সমস্যা একে দীর্ঘ সময় চালিয়ে নিয়ে যাওয়া। এখানে নানা মত থাকে। নানা ধরণ থাকে। যেমন ভগত সিং সহিংস ছিলেন। কিন্তু গান্ধী ছিলেন অহিংস। কিন্তু তারা একই সাথে লড়েছিলেন। রুমি স্কোয়াড হয়ত আরও একভাবে আন্দোলন শুরু করেছে। এটা ভিন্ন পথ কিন্তু একই সুরে। এইভাবেই আপাতত ভাবতে চাচ্ছি। আশা করি খারাপ কোনও ইশারা পাব না।

ওরা হরতাল করছে না, পিকেটিং করছে না। মানুষ মারছে না। মানুষ হত্যা করছে না। জামায়াত মানুষ হত্যা করে। আর অনশনকারীরা হত্যা করছে নিজেকে। অনশন করে কষ্ট দিচ্ছে নিজেদের। যে দেশে জামায়াত থাকে, সে দেশে নিজেদের বাচিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।

যে সমস্ত ব্লগার টক শো তে যায়,তাদেরকে চুশীল ব্লগার বলে।

সাধারণত কোনও কমিউনিটি বা গোষ্ঠিকে চেনার মূল ইসন্ডিকেটর হল-নেতাকে চেনা। নেতা যদি স্বল্প জ্ঞানী হয়, শিষ্যরা হয় স্বল্পতর জ্ঞানী। আর নেতা যদি অথর্ব হয়, শিষ্যরা হয় অথর্বতর।

তার মানে সরকার মেনে নিচ্ছে কেবল ধর্মীয় মতই মত, পৃথিবীতে আর কোনও মত থাকতে পারে না।

যে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে জামায়াতের দাবিই মেনে নেয়, সেই আওয়ামীলীগের দরকার নেই।

যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলে তারাই নাস্তিক।

যারা বাঙলাদেশের পক্ষে কথা বলে তারা নাস্তিক, যারা পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলে তারা আস্তিক।

আমাদের দেশে সাংবাদিকরা সংবাদ নামে যা লেখে তা আসলে সাহিত্য। এই সাহিত্যেই লুকিয়ে থাকে বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামীলীগ-বাম।যার ফলে সংবাদ কখনই সংবাদ হয় না, সংবাদপত্র কখনই সংবাদপত্র হয় না, আর প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠান হয় না, সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান থেকে যায় সামন্তীয় একটি কারখানা রূপে।

দীর্ঘদিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল মুবিনুল ও শুভ্রাংশু বাসদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। তখন আমি তাদের সরে দাঁড়ানোকে সমর্থন দিয়েছিলাম। কারণ বাসদের পার্টি সংস্কৃতি নিয়ে আমার সমালোচনা ছিল। কিন্তু খালেক ভাই যে কারণ দেখালেন তাদের চলে যাওয়ার, তাতে খালেক ভাইকেই এই মুহূর্তে আমি সমর্থন করছি। এবং একই সাথে এইও জানিয়ে রাখছি বাসদ শিবদাস ঘোষ থেকে বেরিয়ে এসে খালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি মুসলিম বাংলাদেশি বাম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকে এগুবে বলে আমার ধারণা। এবং এটি বরং আরও বেশি বাসদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রথম আলোতে কারও বউ নিয়া আজেবাজে গল্প ছাপাইয়া সাহিত্য সম্পাদকের চাকরি যাওয়ার চাইতে, শাহবাগ গণজাগরণের বিরুদ্ধে গল্প ছাপাইয়া সাহিত্য সম্পাদকের চাকরি যাওয়া ভাল।

সেদিন দীর্ঘ আড্ডার পর আমাকে এক মেয়ে বলল- ভাইয়া আমি আপনাকে চিনি। তসলিমা নাসরিন বিষয়ে একবার এফবিতে আপনার সাথে কতা হয়েছিল। সেদিন থেকে আমি আপনাকে দেখতে পারি না। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বলতে পারি নাই তাকে। শুধু বাড়ি ফেরার পথে মনে হচ্ছিল-নারীর জন্য সত্যই ভাল কিছু করা আর তসলিমার পুরুষ বিদ্বেষ এক জিনিস নয়।

শাহবাগ নিয়ে গল্প লিখলে কেউ মারে না, কাজেই বিনা দ্বিধায় গল্প লেখা যায়; কিন্তু হেফাজত আর জামায়াত নিয়ে গল্প লিখলে মাইরা বাসার সামনে ফেলে রাখার সম্ভাবনা আছে। কাজেই তা না লেখাই ভাল।

প্রথম আলো শিখিয়ে দিল বখাটেদের এখন ক্ষমা চাইলেই চলবে।

হুজুরের পা ধরে মাফ চাওয়ার চাইতে, নারীর পা ধরে মাফ চাওয়া ভাল।

খুব দ্রুতই বাঙলাদেশে দুই গণের নারীবাদীর ঝগড়া প্রকাশ্য হয়ে উঠবে। একটি হল- পেন্ট-শার্ট পরা নারীবাদী আরেকটি হল বোরকা পরা নারীবাদী। ভারতীয় নারীবাদ বা বাঙলাদেশের নারীবাদ বলে একটি ডিসকোর্স ডেভেলপ করার এখনই সময়।

হেফাজতও আসল, আর জামায়াতের কথাও আমরা ভুইলা গেলাম।

গার্মেন্ট ভবন ধস হতেই পারে না, এইটা কেউ ধসিয়ে দিয়েছে।

জীবনের চাইতে মুনাফাকে বড় করে দেখে এমন রাষ্ট্র চাই না। হৃদয়ের চাইতে টাকাকে বড় করে এমন প্রেম চাই না।

ঢাকা শহর এখন গার্মেন্ট কর্মীদের দখলে। জয় বাংলা।

ইদানিং দেখছি অনেকেই আমার সাথে খেলতে চান। আমি সম্ভবত বোঝাতে পারিনি, সবাইকে আমি খেলোয়াড় বা খেলোয়াড় হিসেবে যোগ্য মনে করিনা।

কোথাও কোনও বড় দুর্ঘটনা হলে মধ্যবিত্ত ঝাপিয়ে পড়ে। কেউ হাসে, কেউ কান্দে, কেউ তামাশা করে, কেউ ব্যবসা করে।

কিন্তু উচ্চবিত্ত কিছু দিনের জন্য বিরক্ত হয়। ভাবে যে বাঙলাদেশের মানুষগুলো কি কখনও সভ্য হবে না।

নর্তন-কুর্দন এমন জিনিস যে এটা যে কোনও সময়েই করা যায়।

সাজ্জাদ শরীফ হলেন ফরহাদ মজহারের মুসলিম এক্সটেনশন আর সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ হলেন ফরহাদ মজহারের খ্রিস্টান এক্সটেনশন।

মিল্লাত বামের চেয়ে চাইনিজ বাম ভাল।

ইদানিং মনে হচ্ছে পৃথিবীতে কেবলমাত্র প্রেম নিয়ে লেখা সাহিত‌্যই অমর হয়। ভাবছি এবার শুধু মাত্র প্রেমের কবিতা লেখার টার্গেট নেব। আর চুটিয়ে প্রেম করব। কেউ পাশে থাকতে চাইলে আওয়াজ দিয়েন।

নতুন পশ্চিমা মিডিয়া তত্ত্ব: বাংলাদেশ এতটাই শক্তিশালী যে পশ্চিমা মিডিয়া বাংলাদেশের গার্মেন্ট নিয়ে কোনও নিউজই করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমি মুগ্ধ। আশা করি জামায়াতি আর চীনা বামেরা আজ আর আওয়ামীলীগের ওপর অভিমান করেন নি।

সাহারার ৪৮ ঘণ্টা আর খালেদার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই।

মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে হেফাজত করে যাওয়ার বিষয়টা খারাপ না।

সিপিবির দেখাদেখি বিএনপি হরতাল প্রত্যাহার করে, বিএনপির দেখাদেখি হরতাল প্রত্যাহার করে বাসদ ও বাম মোর্চা।

ধর্মের রাজনীতির চেয়ে লাশের রাজনীতি ভাল।

আমার শত্রুরা আমাকে মুসলিম জঙ্গি বানিয়ে ফেলেছে দেখে বাংলাদেশে হিন্দু জঙ্গি সংগঠন গড়ার কথা ভাবছি। আগে তো জাত বাচাতে হবে। পরে অন্য বিষয়।

অনেকে বলেন, বামপন্থিদের বিরুদ্ধে সমালোচনা যারা করে তারা মৌলবাদী জঙ্গি। সে হিসেবে হুমায়ুন আজাদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মৌলবাদি জঙ্গি। কেননা উনি বলেছিলেন-আমাদের প্রায়-প্রতিটি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকের ভেতরে একটি ক’রে মৌলবাদী বাস করে।

ফরহাদ মজহার সরাসরি জামায়াত করে না, জামায়াতের পক্ষে কথা বলে; তার লেখা প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু আল মাহমুদ সরাসরি জামায়াত করে এবং জামায়াতের পক্ষে কথা বলে, কাজেই তার লেখা প্রকাশ করা যাবে।

বাংলাদেশে তরুন বুদ্ধিজীবী গোল্লায় যাওয়ার একমাত্র কারণ গুরুমুখিতা।

মুন্নী সাহাকে অপছন্দের পেছনে পুরুষতান্ত্রিক ঈর্ষা জড়িত।

আমি যখন ছোট ছিলাম, আমাদের মহল্লায় একটি সংস্কৃতিতে অনেকেই প্রায় অতিবিরক্ত ছিল। সেটা হল মাইকে ভয়ঙ্কর আওয়াজে গান বাজানো। এটা এতটাই বীভৎস ছিল যে কেউ খুবই অসুস্থ, তাকেও এই নিয়তিকে মেনে নিয়ে চুপ করে থাকতে হত। এই সংস্কৃতিটা এখন তেমন একটা নেই।কথাগুলো মন পড়ল বাংলাদেশের নব্য টিভি সাংবাদিকদের সংস্কৃতি দেখে।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি কি নিষিদ্ধ করা উচিত? ৬৪.৮% না, প্রথম আলো জরিপ;প্রথম আলোর রাজনীতি কি নিষিদ্ধ করা উচিত? ৬৪.৮% হ্যাঁ, দুপুর মিত্রের জরিপ।

আসলে মহাসেন ভয়াবহ আঘাত হেনেছে, সরকার লাশ গুম করেছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটগুলোতে ইন্টেলেকচুয়াল চর্চার নামে যেসব বউ আলোচনা-সমালোচনা হয়, বাথরুম আলোচনা-সমালোচনা হয়, বুদ্ধিবৃত্তিক মারপিটের নামে যেসব পেশী শক্তি, আর হেরে দেখে নিমু, ওর চাকরি খামু, ও বাংলাদেশে থাকে কিভাবে টাইপের চর্চার দিকে চলে যায়; তখন এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার দৌঁড় কার কত।

নাতি-নাতনিদের কেউ কেউ হয়ত গল্প করে বলবে-এক সময় এই দেশে হিন্দু থাকত। ওরা মূর্তি পূজা করত।

স‌ৌদি নারীর এভারেস্ট বিজয়ে হেফাজতে ইসলাম হতাশ।

সব পত্রিকায় শাহবাগ আন্দোলনের সময়েও ইসলামি ব্যাংকের বিজ্ঞাপন নেওয়া যেমন হালাল ছিল, তেমনি এখন সব পত্রিকার মাহমুদুর রহমানের পক্ষে দাঁড়ানোও হালাল।

গান্ধী হতে চাইলে দু’ একটি ছাগল সাথে রাখতে হয়।

সহ্য করা আর মেনে নেওয়া এক নয়। মেনে নেওয়া হচ্ছে কোনও ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া ছাড়াই মেনে নেওয়া আর সহ্য করা হচ্ছে পরবর্তী কোনও ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়ার জন্য মেনে নেওয়া।

মুচলেকা দিয়ে বিপ্লব করার মধ‌্যে একটি হলিউডি ভাব আছে।

প্রবাসীরা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এরা রেমিটেন্স বাড়ায়। কাজেই তাহমিমা আনামের আরও ইংরেজি বই লেখা উচিত।

বাংলাদেশের ব্লগাররা মনে হয় ভোটার না।

একবার Leo Tolstoy বলেছিলেন Nietzsche was stupid and abnormal.আর আমি যদি বলি আহমদ ছফা ছিলেন একজন বেয়াদব আর উন্মাদ; তাহলে নিশ্চিত লোকজন আশাকে মারতে আসবে।

যখন ছোট ছিলাম তখন সরকারি কলেজের অধ্যাপকদের দেখতাম ভাল সাহিত্য কি বোঝাত, যখন একটু বড় হলাম তখন দেখলাম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ভাল সাহিত্য কি বুঝাচ্ছে, ভেবেছিলাম এত কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই ভাল সাহিত্যে দেশ সয়লাব হয়ে গেছে। এখন যখন একটু বড় হয়েছি দেখলাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমাকে শেখাতে চাচ্ছে ভাল সাহিত্য কি? এবার নিশ্চিত বাঙলাদেশে খারাপ সাহিত্য খুজে পাওয়া যাবে না।

হিন্দুদের প্রগতিশীলতা হল গরুর মাংস খাওয়া আর মুসলমানদের প্রগতিশীলতা হল হিন্দু মেয়ে বিয়ে করা। এইটা প্রগতিশীল কাজী নজরুল ইসলামের আমলেরও আগে থেকে।

আমি জানতাম কমিউনিস্টরা বুড়া হলে আস্তিক হয় আর লেখকরা বুড়া হলে ঈদ সংখ্যায় লিখে। এখন দেখি ১৫-২০ বছর বয়সেই লেখকেরা ঈদ সংখ্যায় লিখে।

আপারা মাঝে মাঝে চুদুরবুদুর না করলে অবশ্য ভালও লাগে না।

৫টি পরকীয়া করলে যে পাপ হয়, একবার আফগান বোরকা পড়া নারীকে সমর্থন দিলে, সেই সব পাপ পুণ্যে পরিণত হয়।

ভারতের সাংসদরা সংসদে বসে পর্ণো দেখে; সেই তুলনায় আমাদের দেশের সংসদ অনেক ভাল।

ছাগল যে ডিম পাড়ে এটা বোঝার জন্য মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও চুপচাপ বসে থাকতে হয়।

আওয়ামীলীগের কেউ ইসলামি ব্যাংকের পক্ষে বললে হালাল, আর বিএনপির কেউ ইসলামি ব্যাংকের পক্ষে বললে হারাম।

গরু-ছাগল নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে ভাল ফিল্ড বাঙলাদেশের মিডিয়া।

শামীমুল হক শামীম, শামীম রেজারা অপার বাঙলায় পুরা জীবন দিয়া যা আদায় করিতে পারেন নাই; মজনু শাহ, মাসুদ খান, সাজ্জাদ শরীফরা অল্প একটু জীবন দিয়া তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি আদায় করিয়া নিয়াছেন। ইহাকেই এপার বাংলা- অপার বাংলার সাহিত্য বাণিজ্য বলা হয়ে থাকে।

সংসদে কেবল খালেদা আর হাসিনাকেই বলতে দেওয়া হোক।

বাংলাদেশে যারা নিজেদের বলে আমার দেশ, তারা আসলে পরের দেশ; যারা নিজেদের বলে জাতীয়তাবাদী, তারা আসলে বিজাতীয়তাবাদী।

রাজনীতিবিদদের চুদুরবুদুরের চাইতে কবিদের চুদুরবুদুরই ভাল।

বাঙলাদেশে রাষ্ট্রীয় মদদে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার প্রথম শুরু করেন শেখ মুজিব মাদ্রাসা ও ইসলামি ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে। একদিকে সমাজতন্ত্র আরেকদিকে ইসলাম মিশিয়ে গঠন করেন এক জড়াখিচুড়ি মার্কা রাষ্ট্র। যার খেসারত এখনও আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

হাসিনা যদি ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদার মত এইরূপ একটা লেখা লিখতেন, আমার ধারণা বাঙলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা রাস্তায় নেমে যেতেন এতদিনে। ভাগ্যিস লিখেছিলেন খালেদা জিয়া।

এক মাহমুদুর রহমান আমাদের যতটুকু ক্ষতি করেছেন, ১৫ সম্পাদক আমাদের তারচে বেশি ক্ষতি করেছেন। এই ক্ষতিটা অনেকটা ক্যান্সারের মত। জনগণ যেদিন বুঝতে পারবেন এইসব গণমাধ্যম নামধারী প্রতিষ্ঠান আসলে এক একটি ক্যান্সার; সেদিন মৃত্যু ছাড়া আর কোনও কিছুর জন্যই সে আর অপেক্ষা করবে না।

পারফর্মিং আর্ট যখন ক্রিয়েটিভ আর্টকে শাসন করে, তখন তার পরিণতি হয় ইতরামি।

সকালে ঘুম থেকে ওঠা, নাস্তা বানানো, ছেলে-মেয়েকে স্কুলে দেওয়া, অফিসে যাওয়া, বাড়ি ফেরা, রান্না করা, হাজবেন্ডকে সময় দেওয়া। মাঝে মাঝে মনে হয়, পুরো পৃথিবীটা টিকিয়ে রেখেছে নারীরাই। পুরুষ কবল তা দখল করে রেখেছে।

খালেদা জিয়া লেখকদের একটা বড় উপকার করেছেন। উনি প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, কারও নামে লেখা প্রকাশিত হলেই সেটা তার লেখা হয় না।

বাম বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এক জিনিস নয়। বরঙ অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত।

তেঁতুল পাতার রস কৃমিনাশক।

যাক আওয়ামীলীগ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিছে বাঙ্গালি মুসলমানের দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছাড়া টেকা সম্ভব না। গোলাম আযমের রায়ে আ’লীগকে স্বাগতম।

যাদের নিজের নামে সাহিত্যে টিকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে তারাই দশকের নামে টিকে থাকতে চায়।

সনেটের মাইকেলের বাঙলা চতুর্দশপদী কবিতাবলী কেউ বলে না, কাজেই ফ্ল্যাশ ফিকশন, মেটা ফিকশন, পাল্প ফিকশনের বাঙলা করে কোনও লাভ নেই। এটিও কেউ বলবে না।

দুপুর মিত্র বাংলা সাহিত্যের প্রধান ধারা নয়, দুপুর মিত্র হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের বিকল্প প্রধান ধারা।

জগত তেঁতুলময়।

অনেকেই গল্পগুজবে, নানা ছলা-কলায় বলেন যে, দুপুর মিত্র কখনও দৈনিকে লিখেন না। এমনকি লিটলম্যাগগুলোতেও না। তারপরও উনি লিখেই চলছেন। নিজের মত করে। অথছ কোনও মিডিয়াতেই দুপুর মিত্রের কোনও লেখা নেই। এর কারণটা কি? তাদেরকে কি করে বুঝাব রে পাগলা, দুপুর মিত্র নিজেই একটা মিডিয়া।

বাংলাদেশ যদি বাঙ্গালি মুসলমানের দেশ হয়, তাহলে এর কাউন্টার ডিসকোর্স হবে বাংলাদেশ বাঙ্গালি হিন্দুদের দেশ।

যে যত বড় গডফাদারের সাথে থাকে সে তত বড় সাংবাদিক।

বাঙলাদেশের প্রায় সব মিডিয়াই প্রথম আলো মানে পরনির্ভরশীলতার মিডিয়া। আমাকে কেউ কেউ বলেন, প্রথম আলো একজনকে হয়ত গল্পকার হিসেবে প্রচার করেছে। এরপর অন্য কোনও মিডিয়াই তাকে কবি হিসেবে মেনে নেয়নি। এরকম অজস্র ঘটনা এমন কি জাতীয় রাজনীতিতেও তাই। প্রথম আলোর বিশেষ ধারণার বাইরে বাঙলাদেশের অন্য মিডিয়া আসতেই পারে না। একেই পরনির্ভরশীলতার মিডিয়া বলে।

আওয়ামী লীগের ভেতর বিশাল একটা অংশ আছে যারা সুবিধার কারনে আওয়ামী লীগ করে কিন্তু মনে প্রাণে জামায়াত-শিবির সমর্থন করে। এরাই একসময় মুসলিম লীগ গঠন করবে।

ছাগল সুযোগ পেলে কখনও কখনও কুকুরের মত আচরণ করতে পারে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s