Home

199946_1019540321412_8479_n

আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা কবে চীন-পাকিস্তান-ভারত-রাশিয়া বাদ দিয়ে বাংলাদেশপন্থি হবেন?

“আওয়ামীলীগ বলে যে আমার দলে যোগ দেও, আমি বললাম না, আমি দল করতে পারব না, বিএনপি বলল-বামরা বলল;না করে দিলাম। চাকরিতে গেলাম সেখানেও দেখি দল। বললাম আমি দল করতে পারব না। সেখানে দেখা গেল দল ছাড়া খাবার জুটে না। এভাবে দল না করে না খেতে খেতে, না খেতে খেতে আমি কি মারা পড়ব?

“সেদিন একজন আমাকে বললেন, আমার চে’ নিয়ে কিছু লেখা-জোখা আছে, সে অর্থে আমি তো প্রগতিশীলই। আমি বললাম ছোট বেলায় প্রথম চে’ এর ডাইরি ধারাবাহিকভাবে পড়ি জামায়াত সমর্থিত ম্যাগাজিন পূর্ণিমায়। সে অর্থে কি পূর্নিমাও প্রগতিশীল?

“আমাদের দেশের সব মানুষের মধ্যেই এত সামরিক সংস্কৃতির চর্চা কেন? একজন মন্ত্রী বা সাংসদ যাচ্ছেন, তার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা; যেন মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের নির্বাচিত নন; তাকে পেলেই জনগণ খুন করবে, এমনকি বেসরকারি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যেও দেখি হাই প্রোটোকল চিন্তা। শুধু তাই নয় সংবাদপত্র, নাটক, সিনেমা সবকিছুতেই সামরিক সংস্কৃতি। কোথাও রাজনীতির কথা বলা যাবে না। যেন রাজনীতি জনগণের নয়, ভূত-পেত্নীর। যেন রাজনীতি জনগণের নয়, কতিপয় আমালার। তাই আপাদমস্তক নাটক, কবিতা, গান সবই কেবল আরামের সংস্কৃতি। এখানে নিরন্ন মানুষ নেই, হাহাকার নেই, কেবল প্রেম আছে,ফুরফুরে প্রেম আর রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছে যৌনতা। এমন কেন?

“আমাদের দেশে আওয়ামী মার্কা বুদ্ধিজীবীদের দেখলে কেমন যেন বৃদ্ধ, জরাজীর্ণ, মুখ থেকে শব্দ বেরুয় না, আদর করে কথা বলতে হয় ; আর বিএনপি মার্কা বুদ্ধিজীবীদের বাচাল, ধূর্ত, ইনিয়ি-বিনিয়ে কি যেন একটা করে ফেলতে চায় আর বাম বুদ্ধিজীবীদের দেখলে জমিদার বাড়ির কর্তা, সুখে-দু:খে খায়-দায়-ঘুমায়, কখনও ইচ্ছে হলে প্রজা বা কর্মীদের সাথে কথা বলে কিন্তু সারাক্ষণ থাকে তারা ধ্যানে, অন্য কোথাও অন্য কোনও দেশ বা বেহেস্তে; এরকম মনে হয় কেন?

“একজন কবির কার কার কি কি লেখা পছন্দের-অপছন্দের, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ কবি গোষ্ঠী কার নাম কোন কবি নিয়েছে -কার নাম কোন কবি নেয় নাই; এ নিয়ে এত দাঙ্গা-হাঙ্গামা, চিল্লা-চিল্লি করে কেন?

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড না বলে প্রাচ্যের বিনোদন কেন্দ্র বললে কেমন হয়?

“ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা, আর ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছি বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীরা। তাহলে কি ইউনূস বিএনপি করে?

“বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর মানুষজন শুধু শিক্ষাগতযোগ্যতা নয়, মানসিকভাবেও তৃতীয় শ্রেনীর হয় কেন?

“সাক্ষাতকারে বড় কবিদের ছোট কবিদের নাম বলতেই হয় কেন?

“আগে প্রতিষ্ঠান ছিল না, ছিল গুরু; তাই গুরুমুখিবিদ্যা। এখন প্রতিষ্ঠান আছে,গুরু রূপান্তর হয়ে হয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিযোগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে এখনও কেন গুরুমুখিবিদ্যা?

“ভারত বর্ষে প্রাচীন কাল থেকেই যোনি ও লিঙ্গ পূজা (শিব পূজা)র প্রচলন থাকলেও যোনি পূজা হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে কিন্তু লিঙ্গ পূজা এখনও টিকে আছে কেন ?

“বদলে যাও বদলে দাও নামের প্রথম আলো প্রকল্পের নানা কিসিম দেখলে হাসি পেলেও বিশেষ বিশেষ সম্মানিত ও আদর্শবান বলে পরিচিত ব্যক্তিদের এই প্রকল্পে প্রকাশিত লেখা দেখে হাসি পায় না কেন?

আমাদের দেশে এত নারীবাদী পারলে যে কারও চাকরি নট কইরা দেয়; কিন্তু তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তাদের কোনও সাড়া-শব্দ পাই না কেন?

বাংলাদেশের বামপন্থীরা শাহবাগ মোড়ে বসেই সবসময় আমেরিকা দূতাবাস ঘেরাও করতে চায় কেন?

নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত আ্যাসাঞ্জের পক্ষে কি বামপন্থি নারীরা আছে?

আগে কাউকে বেয়াদব টাইপের দেখলে মনে হত সে নিশ্চয়ই পাড়ার উঠতি মাস্তান। এখন কাউকে বেয়াদবি করতে দেখলে কেন মনে হয় সে নিশ্চয়ই উঠতি কবি?

মেয়েরা স্কিন টাইট পড়তে পারেন (পজিটিভ অর্থে), যেখানে-সেখানে যেতে পারেন(পজিটিভ অর্থে), কিন্তু রোদ-বৃষ্টি না থাকলেও মেয়েরা এখান থেকে সেখানে যেতে রিক্সার হুড ফেলে যান কেন?

বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোও চাকরিজীবনের দক্ষতার চেয়ে ব্যক্তিজীবনের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

বুদ্ধিজীবী-আব্বা না বানাইলে নাকি বুদ্ধিজীবী হওয়া যায় না, আমি যে কোনও বুদ্ধিজীবী-আব্বা বানাই নাই; আমি কি বুদ্ধিজীবি হইতে পারুম?

আগে জানতাম বস্তি হল দাগী আসামীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র, এখন নাকি শিল্প-সাহিত্য-সাংবাদিকতা দাগী আসামীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র?

আমাদের দেশে যাকে যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়, খুব অল্প সময়েই তাকে সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার দিতে দেখা যায় কেন?

ডান-বাম-বুদ্ধিজীবী-অবুদ্ধিজীবী-বন্ধু-বান্ধবী নির্বিশেষে সবাই চায় আমি তার পা চাটি। প্রেম-বিয়ে-ভবিষ্যত সবকিছু কেমন থেমে আছে এই পা না চাটার কারণে। আমার কি পা চাটা উচিত?

আমি যেখানেই যাই বলে আপনি হিন্দু, ইন্ডিযার দালাল। উত্তরে-দক্ষিণে-পূবে- পশ্চিমে যেখানেই যাই বলে আপনি হিন্দু -ইন্ডিয়ার দালাল। আমি বলি আমার জন্ম বাংলাদেশে। তারা বলে হিন্দুরা ভারতেরই। কবিতা লিখতে যাই, গান লিখতে চাই- দু-চার কথা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করতে চাই; সেখানেও বলে আপনি হিন্দু-ইন্ডিয়ার দালাল। আমি বামপন্থার কাছে যাই- বলে দালাল, বিএনপির কাছে যাই বলে দালাল, আওয়ামীলীগের কাছে যাই বলে দালাল। একবার সিদ্ধান্ত নিলাম এই যদি হয় পরিস্থিতি তাহলে দালালিই করি। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা বাংলাদেশের হিন্দুদের যদি এই পরিস্থিতি হয়, পাকিস্তানের হিন্দুদের কি হচ্ছে?

প্রথম আলো কেন বাংলাদেশের আনন্দবাজার নয়, আনন্দবাজারের সাহিত্য ও সাহিত্যিকের বিপরীতে যেভাবে ভারতে সাহিত্য সমাজ, সাহিত্য চর্চা,সাহিত্যিক তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশে কেন প্রথম আলোর বিপরীতে সাহিত্য সমাজ, সাহিত্য চর্চা,সাহিত্যিক তৈরি হবে না?

আমি একটি ব্যাখ্যা দেখে প্রায়ই বিরক্ত হই, বাংলাদেশের অনেক বাঘা বাঘা ফালতু প্রতিষ্ঠানবিরোধীদের মুখেও শুনি প্রথম আলো আনন্দ বাজারের মত প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠতে পারে নি। এটা একটা ফালতু কথা। যে পত্রিকা দেশ দখলের মত চিন্তা করে, (লক্ষ্য করুন ১/১১ এ তাদের অবস্থান) তারা ক্ষতিকর প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তার পৃষ্ঠপোষক নয় কিভাবে? হয়ত তারা আনন্দবাজারের মত বানান রীতি, ভাষা রীতি তৈরি করতে পারে নি। হয়ত তারা আনন্দবাজারের মত সা

সাহিত্যিক তৈরি করতে পারে নি। কিন্তু সাহিত্য বাদে বুদ্ধিবৃত্তিক অনেক জায়গা বা অধিকাংশ জায়গা তাদের দখলে। সে হিসেবে এটি আনন্দবাজারের চাইতেও ভয়ঙ্কর। কেননা আনন্দবাজার হয়ত সাহিত্য দখলে রেখেছে বা এই জাতীয় জায়গা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রথম আলো দেশ দখলের দিকে এগিয়েছে। এটা কি আনন্দবাজারের চাইতে ভয়ঙ্কর কিছু নয়?

কাল কলকাতার কবি প্রবীর ভৌমিকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হচ্ছিল-কলকাতার সাহিত্য, গ্রুপিং, এক্টিভিজম, বাংলাদেশ, সিপিআইএম, তৃণমূল, বিশ্ব ব্যাংক। একেবারে শেষের দিকে কেবল আমি আর প্রবীর দা। আলাপ এসে পৌঁছাল তসলিমা আর রুদ্রের প্রেম কাহিনী নিয়ে। আলাপ শেষে আমি যখন বাড়ি ফিরছিলাম তখন মনে হচ্ছিল- তসলিমা বিভিন্নজন যারা তাকে যৌন ইঙ্গিত দিয়েছিল বলে বই লিখেছেন, সেরকম আমিও যদি একটা বই লিখি- যে সমস্ত বিখ্যাত নারীরা আমাকে প্রেমের নামে বিছানায় নিতে চেয়েছিলেন; তাহলে কেমন হয়?

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের লেখা গল্প-কবিতা-উপন্যাস এসব পড়লে কেন সেসব গল্প-কবিতা-উপন্যাস মনে না হয়ে চৌথা বা নোটবুক মনে হয় ? –

গতকাল আমার এক বন্ধু বলল, দেখ তোমার নামে একটি বিষয় কিন্তু ছড়িয়ে গেছে। এটা হল যে তুমি যাই করছ তার মটিফ ভাল না, উদ্দেশ্য মহত নয়। অনেকেই তোমার সম্পর্কে আমাকে এই কথা বলেছে। আমি তাকে বললাম- বাঙ্গালিদের আমি বেশ ভাল করে চিনি। হুমায়ুন আজাদকে তখন কেন আজও তারা পজিটিভলি দেখতে পারে না। কারণ সে সত্যি কথা বলত। এমনকি আজাদের মৃত্যুতে অনেক তোমরা যাকে বল পজিটিভ বুদ্ধিজীবী তাদেরকে আমি হাসতে দেখেছি। এছাড়া হুমায়ূ্ন আহমেদ শাওনকে যে সময় বিয়ে করল, তখন তার বিরুদ্ধে কত আজেবাজে কথাই না শুনেছি। পরমুহূর্তেই তারা ওসব ভুলে গেছে। আমার মনে হয় যারা ৫০০ বছর বা হাজার বছর এগিয়ে থাকতে চায়, তারা যদি বাঙ্গালিদের কথা শুনে কাজ করে তাহলে তারা হাজার বছর পিছিয়ে পড়বে। আপনাদেরও কি একম মনে হয়?

আমাদের দেশে ফেমিনিস্টদের সংখ্যা কত আর পারভার্ট ফেমিনিস্টদের সংখ্যা কত?

কাল মধুপুর থেকে ঢাকা ফেরার পথে আশুলিয়া বেড়িবাধে দীর্ঘ জ্যামের ভেতর হঠাত করে চোখ আটকে গেল বস্তির একটি মেয়ের দিকে। ৪ কি ৫ বছর হবে মেয়েটার। সন্ধ্যার দিকে। তার ছোট ভাইকে কুলে করে নিয়ে যেভাবে শরীর নাড়িয়ে বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে হয়; সেভাবে ঘুম পাড়াচ্ছিল। ভাবছিলাম অত অল্প বয়সেই একটি মেয়ের ভেতর কেমন মাতৃভাব ফুটে উঠেছে। আর পাশেই মেয়েটার বয়সী কতগুলো ছেলে সিগারেট ফুকে ফুকে যাচ্ছিল। মেয়েরা কত অল্প বয়সেই মা হয়ে উঠেন আর ছেলেরা কত অণ্প বয়সেই হয়ে উঠেন ধর্ষক। তাই না?

গতকাল আলাপ হচ্ছিল, বাঙ্গালিরা ব্যাপক অর্থে শুধু কুসংস্কার প্রিয় জাতিই নয়, নানা গুজবে নিগূঢ় বিশ্বাসও তাদের একটি বৈশিষ্ট্য। যেমন এখন অনেক বাঙ্গালি বিশ্বাস করেন মুক্তিযুদ্ধ আসলে বাঙ্গালিরা করে নি, এটা ভারতীয় সৈন্যরাই করেছেন। এখন যেমন অনেকে বলেন রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মুসলমান ছিলেন। বেশ কিছু সময় পর নিশ্চয়ই এরা বলবে বাঙ্গালিদের তো এশিয়ার মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পাওয়ার কথা না, এটা অন্য কেউই আগে পেয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে বাঙ্গালি জাতির পরিচয় বেশ ভালভাবেই বিশ্বদরবারে স্থান দেওয়া যাবে; কি বলেন?

আমাদের দেশের বামপন্থি নেতা বা বুদ্ধিজীবীদের দেখলে সামন্তপ্রভুর মত মনে হয় কেন?

কাল আমাকে এক বুদ্ধিজীবী-বন্ধু বলল, দেখ এক জোট হতেই হবে। এই দেশে নিজেদের ঢোল নিজেদেরই পেটাতে হয়। গ্রুপ না করলে তোর কথা কেউই বলবে না। কারণ তোর কথা বলার জন্য তাদের উদ্দেশ্য তো থাকতে হবে। তুই গ্রুপে ঢোক। আমি মাথা নিচু করে হাঁটতে শুরু করলাম। একবার ওর দিকে তাকাইও নাই। খালি মাথার ভিতর একটা প্রশ্ন ঘুড়ঘুড় করছিল। গ্রুপ না করে নারীর দালাল হলেও আরও বেশি মানুষ আমার নাম করবে বলে জানি। তাহলে গ্রুপ করর না নারীর দালাল হব?

সেদিন আমাকে এক বন্ধু বলল, নারী-প্রেম-যৌনতা বিষয়ে আমি সাধারণত যা বলি তা খুবই অল্পবয়সীদের মত। আমি ঠিক বুঝলাম না তার কথা। নারী-প্রেম-যৌনতা বিষয়ে আমি কি বুড়োদের মত কথা বলব?

সেদিন বেশ কয়েকজন বলাবলি করছে দুপুর মিত্রের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। ওদেরকে কে বুঝাবে, আমি কখনই জনপ্রিয় ছিলাম না, হতে চাইনি আর হবও না। কারণ জনপ্রিয়তা হচ্ছে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। হুমায়ুন আজাদ স্যার এ কথা আমাদের অনেক বলেছেন। এই কথা কি এখন আমাকেও বলতে হবে?

সেদিন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেই বসল, আচ্ছা আপনি যার বিরুদ্ধে কথা বলেন, আবার কখনও কখনও দেখি তার পক্ষেও কথা বলেন। এটা কেন? তাকে কি বলা উচিত হবে, আমাদের দেশে বিরোধিতা মানেই জন্ম-শত্রু। যেমন খালেদা-হাসিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বিরোধিতারও একটা সংস্কৃতি থাকে। এই সংস্কৃতিটা এমন নয় যে যার বিরোধিতা করব, তার ভাল কাজেরও বিরোধিতা করব?

বেশ ইনোসেন্ট ভাবেই সেদিন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বামপন্থিরা আপনাকে দেখতে পারে না কেন? আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, বামপন্থিরা হলেন এ দেশের পীর। পীরদের এতটাই ক্ষমতা বাংলাদেশের শুধু এরশাদ নয়, ভারত-পাকিস্তানের অনেক ক্ষমতাবান ব্যাক্তিরাই এই পীরদের মুরিদ। এই পীরদের নিয়ে নিয়ে কখনোই প্রশ্ন তোলা যায় না। বামপন্থিদের নিয়েও কি প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে?

বাংলাদেশের এক তরুণ কবি বলল, কবিতার জন্য মানুষ কত কিছু ত্যাগ করে। দীর্ঘদিন সে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার কথা বলে কোথাও কাজ করে নি। না খেয়ে থেকেছে। প্রেমটা পর্যন্ত করে নি। এখন না হয় সে একটা ভাল চাকুরি করে। কিন্তু সে সময়ের কথা ভাবেন। এটা কি আত্মত্যাগ নয়। তার জন্য, তার কবিতার জন্য আমরা কেন ভাল কথা বলব না। আমি থ খাইয়া গেলাম। আমি তারে বললাম, আসলে তাদের জন্যই বাংলা কবিতা এত উতকৃষ্ট হয়েছে। তাই না?

কক্সবাজার কি বাংলাদেশের ধর্মীয় জঙ্গিপন্থিদের রাজধানী হতে যাচ্ছে? কক্সবাজার ও কক্সবাজার সম্পর্কিত নানান তরিকার মানুষদের কি এখন আমাদের সন্দেহ করতে হবে?

ইদানিং এক বুদ্ধিজীবী প্রকল্প গড়ে ওঠেছে, সেখানে সেক্যুলারিজমের সমালোচনা করা হচ্ছে। এই সমালোচনার ধরণটা এমন যে সমস্ত বিশ্বে মুসলিম নিধন করা হচ্ছে। কাজেই সেক্যুলারিজম ভূয়া। কাজেই প্রকল্পের নির্যাসটাও এমন যে যেহেতু সেক্যুরারিজম ভুয়া আর মুসলিম নিধন চলছে। কাজেই সেক্যুলার হওয়ার দরকার নাই। মানে সাম্প্রদায়িক হওয়াটাই আমাদের লড়াই। যে যত বেশি সাম্প্রদায়িক সে তত বেশি আমেরিকা বিরোধি। এরাই তো মূল বিপ্লবী তাই না?

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সহিংসতার সাথে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সহিংসতার কোনও যোগসূত্র আবার নেই তো? মানে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বের করে দেওয়া হয়েছে কাজেই বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বের করে দেওয়া হবে; এরকম কিছু নাতো?

ইদানিং এক বুদ্ধিজীবী প্রকল্প গড়ে ওঠেছে, সেখানে সেক্যুলারিজমের সমালোচনা করা হচ্ছে। এই সমালোচনার ধরণটা এমন যে সমস্ত বিশ্বে মুসলিম নিধন করা হচ্ছে। কাজেই সেক্যুলারিজম ভূয়া। কাজেই প্রকল্পের নির্যাসটাও এমন যে যেহেতু সেক্যুরারিজম ভুয়া আর মুসলিম নিধন চলছে। কাজেই সেক্যুলার হওয়ার দরকার নাই। মানে সাম্প্রদায়িক হওয়াটাই আমাদের লড়াই। যে যত বেশি সাম্প্রদায়িক সে তত বেশি আমেরিকা বিরোধি। এরাই তো মূল বিপ্লবী তাই না?

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সহিংসতার সাথে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সহিংসতার কোনও যোগসূত্র আবার নেই তো? মানে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বের করে দেওয়া হয়েছে কাজেই বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বের করে দেওয়া হবে; এরকম কিছু নাতো?

সবই বুঝলাম কিন্তু ইয়াবা আওয়ামীলীগ, পাকিস্তানপন্থি আওয়ামীলীগ, জামায়াতি আওয়ামীলীগ, চীনা আওয়ামীলীগ, ভারতীয় আওয়ামীলীগ, আমেরিকান আওয়ামীলীগ এদের ঠেকাবে কে?

Wikipedia তে কলামিস্টের সংজ্ঞা দেখে আর বাংলাদেশের কলামিস্টদের মহান বুদ্ধিজীবীতার আচরণ দেখে পুরা থ হইয়া গেলাম। ভুল কি আমার না বাংলাদেশি কলামিস্টদের? আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা- ৪৫ (A columnist is a journalist who writes for publication in a series, creating an article that usually offers commentary and opinions. Columns appear in newspapers, magazines and other publications, including blogs.

Readers often open a publication with an expectation of reading another short essay by a specific writer who offers a personal point of view. In some instances, a column has been written by a composite or a team, appearing under a pseudonym, or (in effect) a brand name. Some columnists appear on a daily or weekly basis and later reprint the same material in book collections)

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে নিজের ঢাক এতো নিজে বাজাস কেন, তাহলে আমি বলে দেই নিজের ঢাক নিজে না বাজালে ফাটার সম্ভাবনা থাকে। ঠিক আছে না?

আমার বন্ধু বলল, আজকে রামু ঘটনা নিয়ে আমার টক শো, কালকে আরেক বন্ধু বলল, এটা নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ, চায়ের আড্ডায় গেলাম – দেখি লোকজন বলাবলি করছে- আওয়ামীলীগ শেষ, আরেকখান আড্ডায় গেলাম দেখি বলছে, বিএনপির ষড়যন্ত্র, আরেকজন বলছে, ওর সমাবেশের বক্তৃতাটা যা হইছে না- আসল নেতা; আরেকজন বলছে-বুদ্ধিজীবী বটে। রামুতে এত কিছু হয়ে গেল, আর ঢাকায় দেখি উতসব। এক একজন কে কিভাবে বলবে, কিভাবে বললে কে নেতা হতে পারবে, দাম বাড়বে, বুদ্ধিজীবী হতে পারবে এ নিয়ে চরম উত্তেজনা। আহা বুদ্ধ তুমি কি ঠিকই বলেছিলে বর্ষাকালে এখানে, শীত-গ্রীষ্মে ওখানে বাস করবো- মূর্খরা এভাবেই চিন্তা করে । শুধু জানে না জীবন কখন কোথায় শেষ হয়ে যাবে?

আমাকে অনেকেই বলেন প্রতিষ্ঠিত ডিসিপ্লিনের বাইরে কথা বললে তোমাকে এক ঘরে করে দেওয়া হবে, এমনকি শুধু না খাইয়ে নয়, যে কোনওভাবে মেরেও ফেলতে পারে। আমি তাদের বলি হুম আমি জানি। যারা জেনে-বুঝে প্রতিষ্ঠিত ডিসিপ্লিনের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে কি কোনওভাবে আটকানো যায়?

তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। মাথাটা ঘুরে গেল কিন্তু মানে বুঝলাম না। যে কোনও ধরণের কালচারাল ইন্ডাস্ট্রি মানেই হচ্ছে পর্নো ইন্ডাস্ট্রি। এখানে ভাল কিছু করতে হলে তোমাকে হয় পর্নো সিনেমার নায়ক না হয় দালাল হতে হবে। তুমি কি পারবে?

আগে যারা কবিতা লিখত তাদেরকে কবি মনে হয় আর এখন যারা কবিতা লিখে তাদেরকে কবি মনে হয় না কেন? একজন বলল, আসলে কবি জীবন বলে একটা ব্যাপার আছে। আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবছি, কবি জীবন আসলে কেমন? কেউ কি আমাকে একটু বলবেন?

নতুন একটা পিকনিট স্পট হয়েছে রামুতে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এখন অনেক স্বদেশী-বিদেশীও সেখানে যাচ্ছে। যাবি?

বাংলাদেশে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ লাখের বেশী। সে হিসেবে সাবস্ক্রাইবের সংখ্যা দেখে লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কি বা করার আছে?

বড়ভাইগিরি তাও সহ্য হয়, কিন্তু দাদাগিরি একদমই সহ্য হয় না কেন?

আমাদের দেশে সাহিত্য গ্রুপিং রাজনীতির যে অবস্থা তাতে সাহিত্য রাজনীতিবিদ নামের একটি পদবী রাখা দরকার। তাই নয় কি?

গতকাল এক উর্ধ্বতন আমলা বন্ধুর সাথে দেখা হল। দেখা মানে সেরকম দেখা। ৫-৭ বছর পর। কিন্তু পরিস্থিতিটা ছিল পুরাই উল্টা। দেখা হওয়ার সাথে সাথে সে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করে ফেলল। তুই কি এখনও পলিটিক্যালি বায়াস হতে পারলি না, মিডিয়া একটা বাস্টার্ড জায়গা, তুই ওখানে কি করস, তোর ক্যারিয়ারের এই অবস্থা কেন, এইভাবে কতদিন চলবি? এরকম প্রশ্নে আমি মাথা নিচু করে রইলাম। জিজ্ঞেস করলাম, তুই এত কিছু জানলি কেমনে? সে বলল, ভার্সিটিতে আন্দোলন সংগ্রামে আমার দুইজনকে ভাল লাগত। তার মধ্যে তুই একটা। আমি ফেসবুকের তোর সবকিছুই ফেক আইডি দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখি। আমি একটু ভয় পাইলাম। তবে তার একটা প্রশ্ন আমার মাথায় গেথে গেল। তুই এখনও পলিটিকেলি বায়াস হতে পারলি না? সত্যি পারলাম না। ক্যারিয়ারের অবস্থাও ভীষণ খারাপ। অনেকদিন পর আমার শরীরে ব্যর্থতা স্পর্শ করল। ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ল ব্যর্থতা। তাই কাল থেকে মনটা ভীষণ খারাপ। আজ কি কোনও মেয়ে ভুল করে ফোন করে আমার মনটা ভাল করে দেবেন?

অবশেষে আমরা বাঙ্গালিরা নিউইয়র্ক উড়িয়ে দেবার যোগ্যতা অর্জন করলাম। এই খুশিতে কাজ বাদ দিয়ে চা খাচ্ছি। ঠিক আছে না?

গান্ধীর মত মহান নেতাদেরকেও ছাগল পোষতে হয় কেন?

বাংলাদেশের মাসুদ খান আর পশ্চিমবঙ্গের রণজিত দাশ। উভয়েই কবি সাম্রাজ্য ও আমলা সাম্রাজ্যে বেশ ক্ষমতাধর। সে হিসেবে কি বলা যায় বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিক প্রবণতা আমলা দ্বারা শাসিত?

প্রিন্ট মিডিয়ার চাইতে টিভি মিডিয়ায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি হয় কেন?

মিশনারিরা যখন এ দেশে প্রবেশ করে, তখন তারা বলত- এরা অসভ্য, গালিগালাজ করে। এদের কোনও সংস্কৃতি নাই। এমনকি এদের ঈশ্বরও ভুয়া। এরকম আমাদের দেশে কিছু কবি মিশনারি আছে, তারা বলে- ওদের কথা শুন না। ওরা অসভ্য। ওরা গালিগালা করে। এমনকি ওদের লেখাও লেখা না। এইসব মিশনারি কবিদের কি ঠেকানো যাবে?

আজ তো লক্ষ্মী পূর্ণিমা। কি চুরি করব কারও মন না অন্য কিছু?

বিএনপিওলারা এবার কোন পদ্ধতিতে ভারত বিরোধিতা করবে?

আমাদের দেশের প্রায় সকল বুদ্ধিজীবী এমনকি তরুণ বুদ্ধিজীবীদেরকেও সিরাজুল আলম খানের মত রহস্যময় মনে হয় কেন?

আহমদ ছফা বাঙ্গালির মন না খুঁজে কেন বাঙ্গালি মুসলমানের মন খুঁজলেন?

বাংলাদেশের কবি শামীম রেজা ও ওবায়েদ আকাশ যে হারে ভারতে পরে থাকেন আর যে হারে পণ্য আমদানি করেছেন, ঠিক একই হারে বাংলাদেশের ডান-বাম নির্বিশেষে এমনকি জামায়াতেরও সমর্থন পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। অথচ তাদের রয়ের এজেন্ট মনে হয় না কিন্তু এই নাদান দুপুর মিত্র যে কিনা এখনও পর্যন্ত ভারত গ্রহটিকে ঠিকমত দেখলই না; তাকে কেন রয়ের এজেন্ট মনে হয় শুধু ডানপন্থিদের নয়, বামপন্থিদেরও?

বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম সাহিত্য কোনটা। কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী দ্বারা করা পত্রিকার সাহিত্য, পঁচে যাওয়া, কোনও স্বরবিহীন লিটলম্যাগের সাহিত্য না মেরুদন্ডবিহীন ওয়েবম্যাগাজিনের সাহিত্য?

জীবনানন্দের কবিদের ওপর প্রভাব ফেলতে ২৫-৩০ বছরেরও বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। আমার দেখি একবছরও লাগছে না। আমি কি জীবনান্দের চাইতে বড় কবি?

শফিক রেহমানরা পত্রিকা দিয়ে এরশাদের পতন ঘটাতে পারেন, আবার ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার পতন দিবসে ভ্যালান্টাইন ডে আমাদানিও করতে পারেন। শফিক রেহমানরা আরও না জানি কি করতে পারেন?

বামপন্থিরা একটা ভাল কনজিউমার গ্রুপ। এটা সবচেয়ে ভাল বুঝে সিভিল সোসাইটি। তাই যে কোনও বামপন্থা বা এই জাতীয় প্রডাক্ট বেঁচতে হলে তাদের কাছে যেতেই হবে। সে অনুযায়ী সিভিল সোসাইটি আর বামপন্থিদের মদ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি কি এটা অনেক  পরে বুঝলাম?

এস এম সুলতানের এক প্রচণ্ড ভক্ত আমার বন্ধু। সুলতানের বাসায় গেলেই তাকে নাকি সুলতান বলত, ওই যে মধ্যবিত্ত খানকির ছেলে আসতাছে। পরে বলত এই খানকির ছেলে বলছি মানে সত্যিকার অর্থে তোর মা-বাবার কথা ভেবে বলিনি। বন্ধুটা আমাকে বলেছিল, সুলতান কেন এই মধ্যবিত্ত খানকির ছেলে বলত জানিস। তাকায়ে দেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বামপন্থি বিপ্লবী, আমলা, এনজিও কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী সবাই কিন্তু এক ব্যানারে দাঁড়াইয়া কথা বলে। ওরা কেউ কারও শত্রু না। বরং গরীবেরই শত্রু আর বড়লোকদের চেলা চামুণ্ডা। এরা এভেবই থাকতে পছন্দ করে। সুলতানের এই গালিটা আসলেই পারফেক্ট- মধ্যবিত্ত খানকির ছেলে। হা হা হা কি বলেন?

এরশাদ কবি হওয়ায় আমাদের দেশে টেড হিউজের পদধূলি পড়েছিল, তাহমিমা আনাম লেখক হওয়াতে বিক্রম শেঠের আসার কথা শুনলাম। আরও না জানি কে কে আসবে। বিষয়টা খারাপ না, কি বলেন?

হে ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের কোন কোন মধ্যবিত্ত বড়লোকের পুলাপানরে তেল মারা কবি -লেখক আছে রে?

হে ফেস্টিভ্যালের শিক্ষা কি হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার লেখকরা ফালতু প্রতিষ্ঠান বিরোধি হেনতেন মার্কা কথা বলে গেছে। কিন্তু তারা কোন লেখক ও কোন লেখকের কি বিষয়বস্তুকে আঘাত করতে হবে তা শেখে নাই বা জানেই না; যে কারণে বিষয়বস্তুকে আঘাতও করা হয় নাই( লিটারাররি অর্থে)। আমার মনে হয় হে ফেস্টিভ্যাল মোটামুটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কারা ট্রান্সকম গ্রুপের লেখক, কারা জেমকন গ্রুপের লেখক। এদের উদ্দেশ্য কি? এদের সাথে কোন কোন লেখক আছে? কারা আছে? কেন আছে? কর্পোরেট সংস্থা সরাসরি লেখকদের পাছায় সিল মেরে দিয়েছে যে তুমি ট্রান্সকমের আর তুমি জেমকনের। তোমার এই এই করা উচিত, তোমার এই এই লেখা উচিত, তোমার এই এই বলা উচিত। এইসব লেখকরা আমাদের একেবারেই পরিচিত। এইসব লেখকেরা সরাসরিই বার্গেনিং করে আপনার সাথে যে কেন তারা এসব করে, কেন আপনারও এসব করা উচিত। আবার এটাও দেখা গেছে হে ফেস্টিভ্যালের যারা বিরোধিতা করেছে তারা কেন বিরোধিতা করেছে? তারা কারা? কোন উদ্দেশ্য থেকে বিরোধিতা করেছে।

এখান থেকে কি লেখকরা শিক্ষা নেবেন না?

একবার ভাবুন আমাদের সাহিত্যকে আমরা কাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। জেমকন গ্রুপ আর ট্রান্সকম গ্রুপ। এই পরিণতিকে আমরা কি মেনে নেব?

বাংলাদেশের কোন কোন লিটলম্যাগ সম্পাদককে লিটলম্যাগকে স্মল এন্টারপ্রাইজে উন্নীত করার জন্য পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে?

আমাদের নাকি শ্রদ্ধা করার কোনও মানুষ নাই। আসেন আমরা যে যার মত গরু-ছাগল সামনে দাঁড় করাইয়া শ্রদ্ধা করতে থাকি। এই ভাবনাটা কেমন?

সবচেয়ে আরামে কবি (বড় ভাই আর গ্রুপ মেনটেইন করলেই কবি) আর বিপ্লবী (একবার মিছিলে দাঁড়ালে অথবা কিছুদিন চান্দা তুললে অথবা কোনও এক বামপন্থা গ্রুপের পক্ষে দু একটা চিড়া ভেজালেই বিপ্লবী) হওয়ার দেশটা মনে হয় বাংলাদেশই। ঠিক বলছি না?

বিশুদ্ধ সংগীতের বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক হল ভারত বাংলাদেশে সীমান্ত হত্যা চালায়; ঠিক আছে না?

সংগঠিত হওয়ার কথা কর্পোরেট বিরোধি লেখক-কবিদের, কিন্তু এ এক নির্মম পরিহাস এখানে সবচেয়ে বেশি সংগঠিত কর্পোরেট লেখকেরা। বামদের সমাবেশ, এনজিওদের সমাবেশ, পত্রিকার বিশেষ আয়োজন হেন জায়গা নাই যে এরা নাই; শুধু তাই নয় আরেক শ্রেনীর কর্পোরেট লেখক গড়ে ওঠেছে এরা দিনের বেলা বিরোধিতা করে রাতের বেলা গুণগান করে। এই দেশি কি সবই সম্ভব?

বাংলাদেশে কে কে গল্পকার সার্টিফিকেট দেয় রে?

সাম্প্রতিক ঢাকাইয়া এক শ্রেনীর বাম ও একটি পত্রিকার বুদ্ধিজীবী(?) [এরা সব সময় একসাথে প্রোগ্রাম করে, কিন্তু জিজ্ঞেস করলে বলে আমরা আলাদা, এক হবার প্রশ্নই ওঠে না] দেইখা আমার কেবল এই কবিতাটা মনে পড়ে কেন?

ছাত্রলীগ আর ছাত্রশিবির এই দুইটারে দেখামাত্র কোপান। কি পারবেন না?

ফুলনদেবী তার ধর্ষণের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন এইভাবে, যারা তার ধর্ষণদৃশ্য দেখেছে প্রথমে তাদেরকে হত্যা; পরে যারা তাকে ধর্ষণ করেছে তাদেরকে হত্যা। বিশ্বজিতের ব্যাপারে কি বিষয়টা এইভাবে ভাবা যায়?

জাহাঙ্গীরনগর থেকে বেরিয়েছ আর জাহাঙ্গীরনগরের বুদ্ধিবৃত্তিক বলয়ের বাইরে গিয়ে কাজ করবা, তুমি কি ভাবছ তোমাকে এই সুযোগ দেওয়া হবে?

এই শীতে দেলওয়ার হোসোইন সাঈদীর ওয়াজ না শুনতে পারলেও আমার দেশ পত্রিকায় সাঈদী বাণিজ্য বেশ জমজমাট হয়েছে। এটা কি অস্বীকার করা যায়?

চিন্তায় পইড়া গেলাম যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে জামায়াত বেশি খেলছে না আওয়ামীলীগ?

প্রগতিশীল ইসলামী জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, এবার প্রগতিশীল জামায়াতে ইসলামি আসলে কি মন্দ হত?

আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য হাজার হাজার শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাদের ওপর চালায় নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতন তারপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। অনেকের মতে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৭০ জন। এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের চাইতে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি সেইসব দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে যারা পাকিস্তানিদের হাতে ধরিয়ে না দিলে হয়ত এইভাবে এত বড় হত্যাযজ্ঞ হত না। এইসব দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী আগেও ছিল, এখনও আছে, তারা কি চিরকালই থাকবে?

আমার সাথে কোনও সুন্দরী মেয়ে কথা বলে না এই কারণে কাল শুধু মাত্র ঢাকা শহরে আমি হরতাল পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। কোনও সমস্যা? (উল্লেখ্য, কমিউনিস্টদের অপতত্পরতা বন্ধে ২০ ডিসেম্বর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের মোর্চা ইসলামি ও সমমনা ১২ দল।)

একজন প্রকৃত শিল্পীকে কখনই সমাজ গ্রহণ করতে পারে না। সমাজের চোখে একজন প্রকৃত শিল্পীর উচ্চারণ আসলে বিকৃত উচ্চারণ। কারণ সমাজ সত্যকে মেনে নিতে পারে না। সে অর্থে বিকৃতিই শিল্প। ভুল বললাম?

যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধারা সবাই কি তখন আওয়ামীলীগ করতেন?

কাল আমাকে একজন শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, ফেসবুকে সমালোচনা করলেই এখন বড় কবি। আমি বলতে চেয়েছিলাম, না আপনার কৌশলটাই ঠিক, প্রকাশ্য দিবালোকে মিডিয়াম্যানদের পাছা দিতে পারলেই বড় কবি। বলাটা কি ঠিক হত?

মুক্তিযুদ্ধের সময় বামদের নেতৃত্ব ব্যর্থতা এখনও তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আর ভুল পথে নয়, এবার শুধু রাজাকারবিরোধী হরতাল নয়, আরও অনেক কাজেই কাছাকাছি থাকা আশা করা উচিত। তাই নয় কি?

কার্পেটের সেলসম্যান, আমাকে বলছিলেন, আজকে তো হরতাল। ক.. ক.. বুঝতে পারলাম হরতাল ডাকা দলের নামটা বলতে পারছে না, আমি বলে দিলাম কমিউনিস্ট পার্টি। লোকটা বলল- হ হ। কিছুক্ষণ পর মনে হল, আমিও তো ভুলতে বসেছিলাম। দেশে কি কমিউনিস্ট পার্টি আছে?

এইসব ধর্ম-টর্ম বাদ দিয়া আসেন আমরা লিঙ্গীয় রাজনীতি করি। এতে এক ধরণের সুখ আছে, কারও কারও বিকৃত সুখ হলেও সমস্যা নাই, ওটাও এক ধরণের সুখ। খারাপ কিছু বললাম?

বাংলাদেশের প্রায় সব গল্পকার আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হইতে চায় কেন? আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হওয়ার ভিতরে কি অনেক স্মার্টনেস আছে?

বাংলাদেশের যে কোনও বইয়ের প্রকাশককে দেখলে মনে হয়, (ইদানিং নতুন কিছু তরুণ প্রকাশনা ব্যবসায় নেমেছে, এরাও দেখি পান মুখে দিয়ে কথা বলে) সুদখোর গ্রাম্য অশিক্ষিত মহাজন, প্রকাশকদের রুচি-মর্জি-চেহারা যদি এরূপ হয়, এরা তাদের প্রতিষ্ঠানে যে সমস্ত বই প্রকাশ করে সে সব না জানি কি?

বাঁশে তেল মাখানোর দরকার কি?

বাংলাদেশের অশিক্ষিত তরুণ প্রকাশকদের ভাবছি পান-সিগারেটের দোকান দেবার পরামর্শ দেব। বিষয়টাকি তারা পজিটিভলি নেবে?

সেদিন এক বাংলাদেশি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আমাকে দেখে বেড কমেন্ট করছিল- তালেবান। বুঝলাম না আমার মত হিন্দুরাও কি আজকাল তালেবান হয়ে যাচ্ছে! যে হিন্দুরা শুধুমাত্র বসবাসস্থান নয়, চাকরি-বাকরিসহ নানা জায়গায় নিপীড়িত, সেই হিন্দুরাও কি আজকাল তালেবানের পথে এগুচ্ছে? পরে মাথায় একটু বেশিই চিন্তা চলে আসল- ভাবলাম প্রতিবছর বাংলাদেশে হিন্দুদের খ্রিস্টান আর মুসলমান হওয়ার সংখ্যা কত? কতজন আওয়ামীলীগ নেতা

(বিএনপি-জামায়াত তো কথাই নেই) হিন্দু সম্পত্তি এখনও দখল করছে? বাস্তুহারা হিন্দুরা কোন পথে এগুচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গে মমতা আসার পর সংখ্যালঘু মুসলমানদের চাকরি-বাকরিসহ অনেক ক্ষেত্রেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য কোনও রাজনৈতিক সরকার কি কোনও পদক্ষেপ নেয়?

বাংলা সাহিত্য নাকি দুই প্রকার। একটা ঢাকার সাহিত্য, আরেকটা কলকাতার সাহিত্য?

আসুন আমরা যে অঞ্চলে যে ধর্ম প্রধান, সেই-ই ধর্মে সাম্যবাদ যোগ করে কমিউনিস্ট সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখি। যেমন ধরুণ আমি যে অঞ্চলে থাকি, সেখানে হিন্দু বেশি, সেখানে হিন্দু সাম্যবাদ, আরেকজন তার অঞ্চলে মুসলিম সাম্যবাদ, এভাবে খ্রিস্টান সাম্যবাদ, ইহুদি সাম্যবাদ …। এমন হলে পুরো পৃথিবীটাই সাম্যবাদী হয়ে ওঠবে। তাই না?

২ বছর পর মনে হচ্ছে ছাত্র জীবনে যারা বখাটে, মাস্তান, স্টুপিড ছিল; সাংবাদিকতা আসলে তাদেরই পেশা। ঠিক বললাম?

তাহলে কি ইসলামি দেশ মানেই রাজাকারদের তোষক?

ওপেন সেক্স, বিড়ি-সিগারেট, গাঁজা-হেরোইন, টাইট জিন্স বাদ দিয়া বাংলাদেশি নারীবাদীদের বাংলা সিনেমায় রেপ সিন বন্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার অনুরোধ করছি। অনুরোধটা কি রাখবেন?

ফেসবুকে বিভিন্ন কবিদের বিভিন্ন কবিতায় লাগাতার লাইক আর কমেন্টের সমাহার দেইখা আমার বাংলা কবিতা লেখা ছাইড়াই দিতে ইচ্ছা করতাছে। ছাইড়াই দিমু নাকি?

কবি হতে হলে একটু নাকি পাগলা পাগলা হতে হয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে চিতকার করতে হয়, হাস্যকর কথা বলতে হয় যাতে আশপাশের লোকজন বলে ব্যাটা কবি, অনেক মেয়েদের সাথে না হলেও একটি প্রেম নাকি অন্তত করতেই হয়। ভাই আমি তো এর কিছুই করলাম না, আমি কি কবি?

বাংলাদেশে বামপন্থি একটি দল রবীন্দ্রনাথকে প্রায় খারিজই করে দিয়েছিল। সেই দলের প্রধান নেতা দেখলাম রবীন্দ্রনাথের গান উল্লেখ করে ফেসবুকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাইছে। আমিও রবীন্দ্রনাথ আর ইংরেজ দুইজনকেই স্মরণ করে নতুন দিনের শুভেচ্ছা জানালাম সবাইকে। কেউ কি মাইন্ড করলেন?

দামিনীকে নিয়ে অমিতাভ বচ্চন কবিতা লিখলেন। এটা অনুবাদ করলেন ওপারের মৃদুল দাশগুপ্ত আর এপারের সাজ্জাদ শরিফ। আমি আসলে তা বলতে চাচ্ছি না, বলতে চাচ্ছিলাম ধর্ষণ ব্যাধির জন্য ভারতীয় মিডিয়ায় বলিউডের ভূমিকা নিয়ে বেশি প্রশ্ন আসায় কি তিনি এই কবিতা লিখলেন?

জনপ্রিয়তা আর বাণিজ্য কি এক জিনিস?

পাশের বাড়ির বউরা কি আসলেই সুন্দর হয়?

ধর্ষকদের যদি লিঙ্গ কেটে দেওয়ার শাস্তি হয়, ধর্ষণে প্রক্সি দেওয়া মেয়েদের শাস্তি কি হবে?

ধর্ষিতার নাম ও ছবি প্রকাশ যদি দ্বিতীয় ধর্ষণ হয়, আমাদের দেশের প্রগতিশীল মিডিয়াগুলো দিনে গড়ে কয়টা মেয়ে ধর্ষণ করে?

ইদানিং কিছু সাহিত্য বুদ্দিজীবিদের কথা বলতে দেখছি যে, তারা দেশীয় জায়গা ধরে কাজ করে বা দেশীয় ফর্মের বাইরে বাংলা সাহিত্যে তারা কাজ করতে চাননা। তাদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে, কবিতা-উপন্যাস-গল্প এসব কি দেশীয় ফর্ম?

আমার আসলে ত্রিপদী লেখা উচিত না হাইকু লেখা উচিত?

আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু পড়ার পর শহীদুল জহিরের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল কিনা এই প্রশ্নটা কেন আমার মাথার ভেতরে ঘুরঘুর করছে?

আন্দোলন ব্যবসা করতে চাই। কেউ কি সাহায্য করতে পারেন?

বাংলা সিনেমায় রেপ সিন আর বাংলা মিডিয়ায় রেপ নিউজের মধ্যে পার্থক্য কি?

বলুন তো কোন মুসলিম দেশে সংখ্যালঘু পাকিস্তানি বিহারি মুসলমানদের নিপীড়িত ধরা হয় (স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নিপীড়নের তেমন কিছু দেখা গিয়েছে কি), এবং এরা যে সংখ্যালঘু এবং নিপীড়িত এটা জাহিরের জন্য কতিপয় বামপন্থি নেতারা যুদ্ধে নেমে যান?

আমি একটি পাকিস্তানি কর্পোরেট বাম দল গঠন করতে চাই। এখানে কাদের কাদের তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে নেওয়া যায় বলুন তো?

সিন্ডিকেট নাকি দুই প্রকার। একটা কবিদের সিন্ডিকেট আরেকটা চোরদের সিন্ডিকেট?

গত ৫ বছরে বাংলাদেশে মিডিয়ায় যে ধরণের ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে, তাতে আমি ভেবেছিলাম অন্তত একটি মিডিয়া বা নিউজ ইন্ডাস্ট্রি হয়ত হবে। কিন্তু তা না হয়ে বরং ম্যাসিভ আকারে সমাজের একটা ডিজিজই হয়ে গেল। আমার ধারণা সেই টাকাটা যদি এনজিওতে ইনভেস্ট করা যেত, একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন বাংলাদেশে দেখা যেত নিশ্চিত। ভুল বললাম?

শব্দ ছাড়া আমার আর কোনও অস্ত্র নেই। শব্দ ছাড়া আমার আর কোনও শত্রুও নাই। সমস্ত রাগ-ক্ষোভ-মান-অভিমান এই শব্দে। আপনাদের কারও সাথে নয়। তারপরও কি আমাদের হত্যা করবেন?

সম্প্রতি ঢাকায় মধ্যবিত্ত নাগরিকদের একটা নতুন ধরণের প্রতিবাদের সংস্কৃতি লক্ষ্য করছি। যে কোনও ঘটনার রাগ-ক্ষোভ একদিন ৫০-৬০ জন এসে জড় করে শাহবাগে। তারপর আরেকজন তরুণ কর্পোরেট কলম যোদ্ধা সেইটা নিয়া নেয় তার হাতে। তারপর সে তারমত করে সেই প্রতিবাদের কাহিনী বানাইতে থাকে। নানা মিডিয়ায় কথা বলতে থাকে। কিভাবে বিরোধিতা করতে হবে সেটাও সেই যেন ঠিক করে দেয়। কি ঘটছে না ঘটছে সেটা বিষয় নয়, পুরা মোব এখন তার হাতে, সে যেমনে নাচাব; তেমনি নাকি আমাদের নাচতে হব। মনে হয় বিরোধিতা আর প্রতিবাদটাও বোধহয় কারও বাপের সম্পত্তি। প্রতিবাদ করতে গেলেও তার মত করে করতে হবে। এইসব ঢাকাইয়া আধা বাম, আধা কর্পোরেট মার্কা প্রতিবাদ-বিরোধিতার গোষ্ঠী কিলাই। ঠিক আছে না?

মরিচের গুঁড়া খাইয়াই মইরা যায়, হেগ মারানোর লিগা আবার সামরিক অস্ত্র লাগব?

বিপিএলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা এল না বুঝলাম কিন্তু বিপিএল উদ্বোধনীতে পাকিস্তানি শিল্পী কেন?

যে দেশের সাহিত্যিকরা মিথ্যা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সে দেশের সাহিত্যিকরাই কেবল রবীন্দ্র ভারতীয় বলে জাতীয় সঙ্গীত বাদ দেবার, বই মেলায় রবীন্দ্র রচনাবলি বিক্রি না করার দাবি তুলে। শিল্পের কোনও দেশ থাকে না। তেমনি শিল্পীরও কোনও দেশ থাকে না। সংস্কৃতির আগ্রাসন বলে কিছু নেই। আগ্রাসন আছে অপ সংস্কৃতির। রবীন্দ্রনাথ কি অপ সংস্কৃতি?

আমাদের দেশে বাংলা একাডেমি হে ফেস্টিভ্যাল করলে দেশজ ও জাতীয়তাবোধ থাকে। কাজেই ফেব্রুয়ারি মাসে শুধুমাত্র বাংলাদেশে প্রকাশিত বইয়ের প্রদর্শন ও বিক্রির নীতিমালা তৈরি করে নয়া দেশজ ও জাতীয়তাবোধ তৈরি করাকে বাংলা একাডেমির কোনও দোষ বলা উচিত কি?

বাংলা একাডেমির বই মেলায় দেশী জাতের চটি বই (যৌবনযাত্রা ডট কম) বিক্রি করা যাবে, সে হিসেবে সমরেশ-সুনীলের (জন্ম এখানে হলেও থাকেন ভারতে যে কারণেই হোক) বই কি বিক্রি করা যাবে বই মেলায়?

দুনিয়াটা এখন নাকি কেবলই কমরেড খালেকুজ্জামানের?

আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো এতটাই শক্তিশালী ও প্রগতিশীল যে তাদের ধর্ম পাতা থাকতেই হয় মানে ধর্মব্যবসা। ব্লগগুলোও কি তাই?

উদ্যোগ ছাড়া কেউ কাউকে চেনে না। আহমদ ছফাকে নিয়ে কত জনের কত উদ্যোগ। হুমায়ুন আজাকে নিয়ে একটি মরণোত্তর উদ্যোগ নিয়ে আজাদ ভক্তদের কাছে মার খাব নাকি?

বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানীরা ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞান সম্পর্কে এত কিছু জানে কেমনে ?

জীবনানন্দরে ভারতীয় বানাইয়া বাংলাদেশের কবিরা নাকি জসীমরে কাউন্টার বানাইতাছে?

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সেদিন সময় টিভিতে বলছিল, উপন্যাস লেখার এক এক রকমের প্যাটার্ন আছে। হাসান একরকম লেখে। হুমায়ুন আরেক রকম লেখে। সে রকম সিনেমাও এক এক রকম। আসলেই নিজেকে উনি ভাল বোঝেন। উনার বানানো সিনেমাগুলোকে কি ফারকী সিনেমা বলা চলে?

বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক দুনিয়া এরকম সামন্ততান্ত্রিক জানলে আগেই আমি গ্রামে থেকে যেতাম। এখানে তুমি যাই-ই করো, সেসব নাকি বড় ভাইদের অবদান। নতুন কিছু-ভাল কিছু মেধা খাটিয়ে পরিশ্রম করে যাইই তুমি কর না কেন সেসব তোমার বড় ভাইদের অবদান। আমাদের দেশের বড় ভাইরা এত বেশি জ্ঞানী, যে তারা তাদের সৃষ্টিশীলতা নিজেরা প্রকাশ না করে ছোট ভাইদের দিয়ে নাকি প্রকাশ করেন আর নয়া ত্বরিকার গোষ্ঠবুদ্ধিজীবীতা তো আছেই। সেইসব গোষ্ঠগুরুদের শিষ্য বড় ভাইরা তাদের জন্য নাকি জীবন দিয়ে দেন। সামন্ত্রতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীতার জয় হোক। কি বলেন জয় গুরু?

বাংলাদেশ এতটাই স্বাধীন যে এখানে জামায়াতে ইসলামি এখন হরতাল ডাকে, শুধু তাই নয় গাড়ি পোড়ায়, শুধু তাই নয় জনগণ আবার এই হরতালে সাড়াও দেয়। কবে যে পাকিস্তান এসে বাংলাদেশে রেট দিয়ে যাবে?

বাংলাদেশে প্রতি বছর বই মেলায় যে এত হাজার হাজার বই বের হয়, এরা কারা বের করে? কিভাবে বের করে? বাংলাদেশের এত লেখক?

একুশে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালন করা যেতে পারে, কিন্তু একুশে বই মেলা আন্তর্জাতিক বই মেলা হিসেবে পালন করা যেতে পারে কি?

বই মেলা নাম বাদ দিয়া প্রকাশক মেলা দেওয়া যায় না?

বইমেলা আসলে লেখকেরা নাকি নিজেদের অনন্ত জলিলেল মত নায়ক মনে করে?

আমাদের দেশে কিছু বুদ্ধিব্যবসায়ীদের মতে, জ্ঞানী হল তারাই, যারা সয়ে যায় আর কিছু বলে না। হ্যাঁ হলেও আপত্তি নেই, না হলেও আপত্তি নেই। জ্ঞান অর্জন আর বিকাশ করতে হলে নাকি কিছু বলতে হয় না। জ্ঞানীদের কাজ নাকি এমন একটি অবস্থান নেওয়া যেন কেউ কিছু তাকে না বলে। এইসব জ্ঞানী বুদ্ধিব্যবসায়ীদের কি আপনি বোঝাতে পারবেন যে যতদিন পর্যন্ত জ্ঞানকে প্রশ্ন না করবেন, জ্ঞানের বিরুদ্ধে ক্ষেপে না যাবেন, ততদিন পর্যন্ত জ্ঞানের বিকাশ হবে না। আগের মতই থেকে যাবে?

কোনও কোনও বুদ্ধিব্যবসায়ী এই আওয়াজ তুলছেন যে, আমরা শান্তিপ্রিয় জনগণ। আওয়ামীলীগ যে দিকে এগুচ্ছে, তাতে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধবে। আমরা এই গৃহযুদ্ধ চাই না । প্রকারান্তরে তারা কিন্তু এই কথা বলতে চাচ্ছেন যে জামায়াত যে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ করে প্রিয়তম পাকিস্তান হারিয়েছি, এবার গৃহযুদ্ধ করে জামায়াতকে হারাতে চাই না। এইসব বুদ্ধি ব্যবসায়ীদের এই জাতীয় কথা চিহ্ণিত করে সবার সামনে মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। তাই নয় কি?

শালার চুতিয়া জনগণ, স্বাধীন দেশে পাশেই জামায়াত-শিবির মিছিল বের করে, গাড়ি ভাঙে তা নিয়ে পাল্টা কোনও অ্যাকশন দেখায় না, আর শাহবাগ মোড়ে দাঁড়াইয়া মোল্লারে ফাঁসি দিল না কেন এ নিয়ে আ’লীগের সাথে গোস্বা শুরু করছে। আ’লীগ কি জনগণের দুলাভাই যে আবদার করবা আর দিয়া দিব। আ’ লীগের ওপর ক্ষেপলেন কেন? ট্রাইব্যুনালে চাপ দেন দেখি? জামায়াতের বিরুদ্ধে উল্টা সামাজিক একশন নেন দেখি? জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বর্জন করেন দেখি? জামায়াতকে মিছিল করতে বাধা দেন দেখি? জামায়াতের হরতাল অমান্য করেন দেখি?

এটা সত্যি দেশে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এখানে অতীতে কে কি করেছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে এই বিচার নিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের কি অবস্থান। এর ভিতর দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল কোনটি তার অবস্থান পুনরায় নির্ধারিত হবে বলে আমাদের মনে হয় এবং এটা একেবারেই নতুন প্রজন্মের কাছে যে প্রজন্ম আগে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তাই নয় কি?

কবি মেহেরুন্নেসার দিব্যি ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্দ শাহবাগ ছাড়বে না কবিরা। সত্যি তো?

কোনও দেশের পতি যদি এত গুলো মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করতে পারে, তবে দেশের পতি কাদের মোল্লারে কেন মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে না?

শাহবাগ মোড় না ছাড়া আর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপরেই নির্ভর করছে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ, যা বলে দিবে মুক্তিযুদ্ধ কোনও দলের নয়, এই যুদ্ধাপরাধের শাস্তির দাবি, মৃত্যুদণ্ডের দাবি কোনও দলের নয়, এটা বাংলার সর্বস্তরের প্রত্যেকটা মানুষের দাবি। তাই নয় কি?

শাহ্বাগে জনতার উচ্ছ্বাস দেখে অনেক আন্দোলন ব্যবসায়ীদের জিহ্বা লকলক করছে। সাবধান দাবি একটাই ফাঁসি ফাঁসি। জনগণই আইন, জনগণই রাষ্ট্র। জনগণের চাইতে বড় কেউ নেই। অনেকে বলবেন- মৃত্যুদণ্ড আমি সমর্থন করি না। অনেক দেশে নাই। কিন্তু একটা কিলিং আর মাস কিলিং এক নয়। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে সবারই ফাঁসি হয়েছিল। অনেকে বলবেন- আ’লীগ-বিএনপি-জামায়াত এসব দিয়ে কিছু হবে না, আমরাই সব। আসেন আপনাদের তো আন্দোলনের অভিজ্ঞতা নাই। আমরা বসি। বয়কট করুন। আমরা জানি আমাদের দাবি কি। আন্দোলন চালানোর জন্য জনগণের কোনও অভিজ্ঞতা লাগে না। কারণ জনগণ আন্দোলন দিয়ে ব্যবসা করে না। যারা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আছে বলে বসতে চায় তারা ব্যবসা করে। অনেকে বলবেন, এই আন্দোলন দিয়ে কি হবে না হবে, একটা সিস্টেমে আসি, আসেন আমরা বসি- এইজাতীয় আন্দোলন ব্যবসায়ীদের বয়কট করুন। অতকিছু বুঝি না- দাবি একটাই: ফাঁসি চাই। কি বলেন সবাই?

জাফর ইকবাল- তার হাত ধরে আনিসুল হক- তার সাত ধরে ফারুক ওয়াসিফ এইভাবে দুপুর বেলায় এতগুলা লোকরে একলা একলা প্রথম আলোই কি বসে বসে খাবে?

আ’লীগ থেকে ছাত্র লীগের সোনার ছেলেদের বলা উচিত কিভাবে আন্দোলন করতে হয়, এখনকার তরুণরা কি চায়, কিভাবে চায়, কেন চায় তা শেখার জন্য, প্রয়োজনে আজকের উপস্থিত তরুণদের চরণ ধূলোও খাওয়ার কাজটি করা যেতে পারে। আন্দোলন দখল করে কোনও যে এখন ফায়দা হয় না সেইটাও বোঝার জন্য। এটা শুধু ছাত্রলীগ নয়, ছাত্রদল বিএনপি তথা আপামর বামসংগঠনকেও বোঝা উচিত। তাই নয় কি?

এই মহাসমাবেশ জানিয়ে দিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নেই, রয়েছে আস্থার সংকট। সমস্ত ডান-বাম মধ্যবয়সী ও বুড়ো নেতাদের নাকে খত দিয়ে এখন ঘরের বাইরে বের না হওয়াই উচিত আমার মনে হয়। কেননা এই গণ জমায়েত, এই জন সমুদ্র এই বলে দিচ্ছে যে তরুণরা এইসব রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না বলেই রাজনৈতিক কাজে আসেন না। এইসব ডান-বাম মধ্যবয়সী ও বুড়ো নেতাদের গলাবাজি ও চাপাবাজি বাদ দিয়ে অন্তত নতুন প্রজন্মের যেসব রাজনৈতিক নেতা তৈরি হচ্ছে তাদেরকে বলা উচিত গলাবাজি ও চাপাবাজির রাজনীতি বাদ দিয়ে আস্থার রাজনীতি চর্চা তৈরি করতে। তাই নয় কি?

গণজমায়েতের সাফল্য দেখে নানা মুণী নানা কথা বলে বেড়াচ্ছেন। কেউ বলছেন এটা বামদের সাফল্য কেন বলছেন না, কেউ বলছেন একাত্তরের চেতনা আ’লীগ থেকে ছুটিয়ে আনা গেছে; যারা বলছেন এটা বামদের সাফল্য কেন বলা হচ্ছে না, তাদেরকে বলি এখানে সবাই নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে এসেছে। যারা বলছেন একাত্তরের চেতনা আ’লীগ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে তাদেরকে বলছি স্বাধীনতার পর থেকে আ’লীগের ভেতর মুসলীম লীগের চক্র আর বিএনপি জামায়াত চক্র সরাসরিই এই চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল নানা প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন তরুণ বুদ্ধিজীবীদের দখল করে, মিডিয়ায় প্রবেশ করিয়ে, হিন্দুদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সামনে না আনার মাধ্যমে ইত্যাদি ইত্যাদি সেই দীর্ঘদিনের প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে, আর চেতনা কখনোই কেউ দখলে রাখতে পারে না, এটা নানাভাবে তৈরি হয় ও জিইয়ে থাকে। এখানে যেমন ডানপন্থিদের স্পষ্ট ব্যর্থতা রয়েছে ঠিক সেরকম নয় তারচেয়ে অনেক বেশি বামদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে এই কারণে যে এদের কারও ডাকেই তরুণ সমাজ আসে নি, এসেছে নিজেদের মত করে, নিজেদের প্রয়োজনে এবং তারা যেভাবে জামায়াতি পণ্য ও প্রতিষ্ঠান বয়কটের শপথ পাঠ করেছে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোনও বাম সংগঠনই এই স্ট্যান্ড নিতেন না ; ডানদের তো কথাই আসেনা। কিন্তু তরুণ সমাজ তা নিয়েছে; এটা একেবারেই প্রাণ থেকে, একেবারেই জীবন থেকে। এই যে প্রাণ থেকে কারও অংশগ্রহণ, দাবি জানানো এই জায়াগাটা কেউ নষ্ট করবেন না। কেউ যদি নষ্ট করার চেষ্টাও করেন তাহলে যে ছাড় পাবেন না এটা নিশ্চয়ই গণজমায়েতের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর জাফর ইকবাল স্যার সম্পর্কে যে যাই বলুন না কেন, আ’লীগের কোনও নেতা পারেন নি দিগন্ত টিভির বিপক্ষে কথা বলতে একমাত্র জাফর স্যারই পেরেছিলেন এবং সেটা একা। এই সাহস কেউই দেখান নি সরকারে বসে থেকেও। কাজেই এটা স্পষ্ট আ’লীগ মানে প্রকারান্তরে সেখানকার মুসলীম লীগের গোষ্ঠিটি হয়ত আঁতাত করতে পারে, কিন্তু জাফর স্যার কখনোই তা করবেন না। ভুল বললাম?

বামপন্থিরা কি কোনওভাবেই বিএনপিকে সমাবেশে আনতে পারল না (কোনও কোনও বামপন্থি দেখলাম স্ট্যাটাস দিয়েছে তাদেরকে নাকি ফোন করে গোপনে বিএনপি এই সমাবেশ যোগ দিয়েছে)?

বাংলাদেশের বুদ্ধিব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের শিক্ষক, উপর মহলের গু খাওয়া কলাম লেখকদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে নানা তাত্ত্বিক বিবৃতি দেখে যেমন ধরুন এই আন্দোলনে অন্তত আ’লীগের কাছ থেকে জয় বাংলা ছিনিয়ে নেওয়া গেল, বিএনপি প্রকাশ্যে না আসলেও লুকিয়ে লুকিয়ে নাকি জমায়েকত শক্তিশালী করেছে, আ’লীগ নাকি গোপনে সেখানে নানা সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে এসব শুনে আবারও আমার মনে পড়ল ওরা কিন্তু শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত একটাই দাবি জানিয়ে আসছে এবং ওই জায়গা থেকে ওরা কিন্তু নড়ে নাই। আরেকটা কথা মনে পড়ল যেভাবে জামায়াতি প্রতিষ্ঠান বয়কটের শপথ তারা নিয়েছে, যেভাবে বুড়ো-মাঝ বয়সী ডান-বাম নেতাদের নামিয়ে দিয়েছে, সেভাবে এইসব নষ্টদের প্রকাশ্যে বয়কটের আহ্বান জানাবে না তো?

যে সমস্ত সাংবাদিক, ব্লগার ও বুদ্ধি ব্যবসায়ী শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপি-জামায়াত-বাম- আ’লীগকে দেওয়া হচ্ছে না বলে এটা অরাজনৈতিক আর অরাজনৈতিক কোনও কিছু এগোয় না বলে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের বলছি এই ইস্যুতে আপনারে যদি আমি চুতমারানি বলি সেটা কি অরাজনৈতিক?

ও আল্লাহ চীনা বা(দা)মরা দেখি জয় বাংলা স্লোগান দিতাছে। হা হা হা । হাসি থামাইতে পারছি না। কেমনে হাসি থামাব?

ছাত্রলীগসহ সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বলছি। এত সুন্দর একটা আন্দোলনের হিতে বিপরীত কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দিচ্ছেন নাতো?

আ’লীগ-বিএনপি-বাম বুড়ো নেতাদের কি লজ্জা লাগে না তরুণদের রক্তে গড়া এই মঞ্চে পা রাখতে?

শাহবাগ আন্দোলনে আ’লীগ-বিএনপি-বাম-জামায়াতের বাইরে থেকে এই আন্দোলনকে গণ আন্দোলন হিসেবে রাখার পক্ষ নেওয়ায় আমাকে ফরহাদ মজহারের দলের লোক বলে প্রোপাগান্ডা চালানোর চেষ্টা চলছে। ইস এই সব বুদ্ধিজীবীরা ৪২ বছর পর কি হিন্দুদের রাজাকার বানানোর প্রকল্প হাতে নিল? ভাবছিলাম যে মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের লুঙ্গি উঁচিয়ে মুসলমানি করা হয়েছে কিনা দেখে নির্বিচারে গুলি করা হত, স্বাধীনতার পর দেখলাম না বা দেখানো হলো না বাংলাদেশে কোনও হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ, বীর প্রতীক আছে কিনা, সেই বাঙ্গালি মুসলমানদের পেটে এতই ক্ষিধে যে এখন বাংলাদেশের হিন্দুদের রাজাকার বানিয়ে পাক্কা মুসলমানের দেশ বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে না তো?

সরাসরি তো আসতে না করা যায় না তাই প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আসতে বললাম। ঠিক আছে না?

মধ্যযুগে আমাদের দেশে কবিগানে দুই কবির বিতর্ক হত। এক কবি থাকতেন মুসলমানের দলে আরেক কবি থাকতেন হিন্দুদের দলে। সারারাত ভরে যুক্ত-তর্ক চলত কবিতার ছন্দ-লয়ে। কোনও সহিংসতা নইই, বরং হাজার হাজার মানুষ রাতভর জেগে কবিদের সেইসব দার্শনিক যুক্ততর্ক উপভোগ করত-শেখার চেষ্টা করত। আমরা কি তাহলে মধ্যযুগের চেয়েও আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি?

যারা শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে মহান বিপ্লব শুরু হইয়া গ্যাছে বলে চিল্লাছেন, মৌলিক সমাজ পরিবর্তনের ডাক ওঠেছে বলে হাপিয়ে উঠছেন; তারা কি প্রমাণ করিবার চেষ্টা করিতেছেন কথায় চিড়া ভিজে?

বাংলাদেশে স্লোগান বিশ্লেষক নামে কোনও ডেজিনেশন আছে?

জাতি হিসেবে অনেকগুলো হতাশার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতাশা হল আওয়ামীলীগের যোগ্য এখন কোনও বিরোধিদল দেখা যাচ্ছে না। তাই না?

টানা ১৭ দিন ফাঁসি ফাঁসি চিল্লাইয়া এখন দেখি আল্টিমেটামে ফাঁসির কোনও আল্টিমেটাম নাই। এমুন হইল কেন?

বিএনপি হরতালের সমর্থন দিছে; এবার চীনা বাদামগুলা দিবে না তো?

নব্য রাজাকার দেখা যাচ্ছে, এবার নব্য মীরজাফর দেখা যাবে না তো?

আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু ডেভেলপ করে আর বিএনপি ইসলাম ইস্যু ডেভেলপ করে। কাকে সাথে নিয়ে তরুণ প্রজন্ম এগুবে?

আবারও শুরু হয়েছে হিন্দুদের ওপর হামলা। মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে সব সুযোগ-সুবিধা তো উনারাই নেন। বীর প্রতীক- বীর উত্তম তো কথাই নেই। অথচ মুসলমানি করা আছে কিনা দেখে একাত্তর সালেই নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে হিন্দুদের। এখন যখন বিচার তখনও নানা স্বাক্ষী নেওয়া হয়েছে হিন্দুদের। আবার সাইদির ফাঁসির রায় হওয়ার পর এই না খাওয়া, অভুক্ত হিন্দুদের ওপর ২০১৩ সালেও চালানো হচ্ছে হামলা। বাংলাদেশে হিন্দু হওয়া কি তাহলে অপরাধ?

বলুন তো বাংলাদেশে চিন্তার পেটেন্ট কে নিয়ে নিয়েছে?

ভোদাই বিএনপি কি আসলে বুঝলই না উনাদের সব কর্মকাণ্ড মিডিয়াতে লাইভ দেখাচ্ছে ?

নিপীড়ক ইসলামের দেশে ইসলাম কিভাবে নিপীড়িত হয়?

এক ব্লগার মাইর খাইলে আরেক ব্লগার খুশি হয় কেন?

তাহলে কি ঢাকা ছাড়া আর কোথাও গণজাগরণ নাই?

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলায় আওয়ামী সরকারের নিস্ক্রিয়তা ও নিরবতাকে কেন প্রশ্ন করা হবে না?

ইদানিং বাংলাদেশে আর্কাইভ জাতীয় বেশ কিছু সাইট হচ্ছে, যেখানে আপনার লেখা অনেকটা স্টোর করে রাখা হবে বা হচ্ছে। বাংলাদেশের লেখকদের কপিরাইট সচেতনতা একেবারেই কম। আপনার যে লেখা স্টোর করা হচ্ছে আপনি কি নিশ্চিত এই লেখার কপিরাইট এখনও আপনার আছে?

ধর্মের কল নাকি বাতাসে নড়ে?

মাহমুদুর রহমান গ্রেফতারে আল্টিমেটাম দিয়েও কাজ হল না, জামায়াতের রাজনীতি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরুর আল্টিমটোম দিয়ে কাজ হবে কি?

আশপাশের এলাকায় থাকা সত্ত্বেও গণজাগরণ মঞ্চে বিদ্যুত নেই কেন?

আওয়ামীলীগকে এখন জামায়াত বলে গালি দিলে কি ভুল করা হবে?

জামায়াত আওয়ামীলীগের ফাঁদে পা দিচ্ছে না আওয়ামীলীগ জামায়াতের ফাঁদে পা দিচ্ছে?

জামায়াত শিবির হেফাজতের সাথে কর্মসূচি পালন করে সরকারের আগেই কি তারা জামায়াত-শিবিরের বিলুপ্তি ঘোষণা করল?

৪২ বছরের আওয়ামী-বিএনপি-জামায়াত-বাম সুবিধাবাদের রাজনীতি কি বিলীন করে দেওয়া সম্ভব?

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়, নাস্তিক্য অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য ও বিশিষ্টজনের মানহানির জন্য কেন কাউকে গ্রেফতার করা হবে না?

নামে কি আসলেই কিছু যায় আসে?

ভূতের মুখে কি কখনো রামনাম শো্না যায়?

এটি হয় প্রথম আলো ব্যবস্থাপনার বিরাট দুর্বলতা, নয় ইচ্ছাকৃত। এত বড় পত্রিকার এটি দুর্বলতা বলে আমার মনে হয় না, তাহলে কি এটি ইচ্ছাকৃত?

যে কোনও পত্রিকার সাপ্লিমেন্ট ছাপা হয়ে যায় দুই-তিন দিন আগেই, এটাকে কেউ যদি চিল্লাচিল্লি করে, কান্না-কাটি করেও বলে অসাবধানবশত এরকম হয়েছে। কারও কি তা বিশ্বাস করা ঠিক হবে?

খাইছে শাহবাগের বিরুদ্ধে একটি গল্প লেইখাই দেখি লোকজন বিখ্যাত হইয়া যাইতাছে। তাইলে আমি বিখ্যাত হমু কেমনে ?

কলকাতার কবিরা বাঙলা সাহিত্য তুলনা করেন বিশ্বসাহিত্য দিয়ে, আর বাঙলাদেশের কবিরা বাঙলা সাহিত্য তুলনা করেন কলকাতার সাহিত্য দিয়ে। তাহলে বাঙলাদেশের সাহিত্য কয় বছর পিছিয়ে?

বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তো কান ধরে বসায় রাখার দরকার ছিল, নাকে খত দেওয়া দরকার ছিল। ওরে টিভিতে ডাক দিছে কে?

কেউ কেউ বেশ সিরিয়াসলি প্রায়ই আমাকে একটি বালখিল্য প্রশ্ন করেন, আমাদের দেশ কি স্বাধীন? তাদেরও আমাকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, পৃথিবীর সব দেশেই হত্যা, ধর্ষণ, মারামারি, কাটাকাটি হয়; তাহলে কি পৃথিবীর সব দেশই পরাধীন?

রাষ্ট্র ধর্ম পালন করতে না পারলেও রাষ্ট্রকে ধর্মীয় রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

কে বেশি দোষী; ভবন মালিক না গার্মেন্ট মালিক?

স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও যদি হিন্দুদের সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলা হয়, মুসলমানের সম্পত্তিকে কেন ডাকাতির সম্পত্তি বলা হবে না?

পোপ পোশাক শ্রমিকদের শ্রমদাস বললে শ্রমদাসই মনে হয়, বামগুলা শ্রমদাস বইলা চিল্লাইয়া মইরা গেলেও তা মনে হয় না কেন?

প্রথম আলোর কোনও সাংবাদিক, লেখক-কবি-সাহিত্যিক দেখলেই ইদানিং আমার ডর ডর লাগে কেন?

অনেকেই বলছেন হাজার হাজার লোক মারা গেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত শুনলাম না কোনও মাদ্রাসা ছাত্রের অভিভাবক বলছেন, তার ছেলের খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। দুই রকম হল কেন?

ইদানিং ছোট ছোট বাচ্চা মেয়েদের বোরকা পড়াতে দেখছি। এই বোরকা পড়া ছোট ছোট বাচ্চা মেয়েদের দেখলে আমার কেমন জানি খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। আমার এমন খারাপ লাগে কেন,কষ্ট লাগে কেন?

বাঙলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে জোক করায় জিনিউজ, জিটিভির সাইট এরকম বেশ কিছু সাইট হ্যাক করা হয়েছিল। প্রথম আলো যে বাঙলাদেশের ক্রিকেট জগতরেই অন্ধকারে ফেলে দিল এর কি হবে?

বামপন্থিরা কখন শিল্পায়ন ইস্যুর বদলে পরিবেশ ইস্যুকে প্রধান করে তুলে? ( রাশিয়া-চীন শিল্পায়ন প্রশ্নে পরিবেশকে কখনই সামনে নিয়ে আসে না, বরংদারিদ্রতা নিরসনে শিল্পায়নে এতটাই গুরুত্ব দেয় যে এই বিশয়ে কোনও প্রশ্ন সামনে আনতে দেয় না। তাহলে গরীব দেশ বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশে এই প্রশ্ন কেন বামপন্থিরা ডেভেলপ করছে। ভারতে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, বাংলাদেশে ফুলবাড়ি-রামপাল। ভারতের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যু আন্দোলন এর পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান খেয়াল করুন। এনজিও ও অন্যান্যদের অবস্থা বিশেষ নজরে আনতে হবে হয়ত)।

আওয়ামীলীগের মুসলিমলীগীয় রাজনীতিটা কি খারাপ?

লোক বনাম নতুন ধারার কবিতা সন্ধ্যা- এইভাবে হিসেব করলে লোকই এগিয়ে। ভুল বললাম?

বাংলাদেশের ফিকশন লেখকদের মাথা থেকে দেবেশ রায়ের ভূতটা কবে যাবে?

বিএনপি আমলে এসেছিল বাঙলাভাই। সে সময় এনটিভি বাঙলা ভাই যে জঙ্গি না ইসলামি সমাজ সেবক এটাও নাকি প্রচার করেছিল। শেষমেষ এর ভাগ্যে জুটেছিল ফাসি। এবার আওয়ামী আমলে আরেক হেফাজত ভাইয়ের উত্থাস ঘটল। এর কপালে কি জুটবে কে জানে?

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারনা আর অভিজ্ঞতা দুই ক্যাটাগরি দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, মানুষের ধারনা দুর্নীতি বেড়েছে। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা দুর্নীতি কমেছে। তাহলে নিউজ হবে কোনটা? ধারনা না অভিজ্ঞতা? সব জায়গায় দেখলাম ধারনাই প্রাধান্য পেল। অভিজ্ঞতা নয়। কারণটা কি?

তাহলে প্রজন্ম চত্বরের কাউন্টার ডিসকোর্স মেধা চত্বর(বিসিএস বঞ্চিতদের চত্বর)?

এখনও বাংলাদেশে নারী ইস্যু জাতীয় আলোচনায় এলে তসলিমা নাসরিনের কথাই মনে হয় সবার। তাহলে আহমদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ নয়, তসলিমাই জয়ী?

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন না করে মানুষ খুন করা যাবে না; এই ক্যাম্পেইন করে না কেন?

বাংলাদেশি হিন্দুদের কি ভারতেও জায়গা নেই?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s