Home

দুপুর মিত্র: এই লাঙলে তার শরীরের দাগ আছে

পোস্টাইছেন: সরসিজ আলীম » ৯ মার্চ, ২০১০, মঙ্গলবার, ২৩:৩৪ শেষভাগ

৪৪টি কবিতা নিয়ে দুপুর মিত্রের কবিতার বই: ৪৪ কবিতা। বের হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০। বইটি বিক্রির জন্য নয়। প্রচ্ছদ: কাঠের শরীর। লেখককে মেইল করলেই যে কেউ বিনামূল্যে পেয়ে যাবেন। ই-মেইল:mitra_bibhuti@yahoo.com
পকেট সাইজের, পেপারব্যাক বাইন্ডিং, কিছু বানান প্রমাদ ছাড়া সুন্দর ছাপা। হাতে নিতে পকেটে ভরে নিতে মন করবে।
সাহিত্য সংস্কৃতিতে কর্পোরেট পুঁজির দৌরাত্বের মাঝে প’ড়ে নতুন লেখককে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে গেলে সেটা অনেকক্ষেত্রে বনের মোষ তাড়াবার ব্যাপার হয়। দুপুর মিত্র বনের মোষ তাড়াতে যাবার কাজটা করেছেন। বইটা তিনি মাগনা বিলি করছেন, তার কারণটা আমার কাছে অন্তত পরিষ্কার নয়। এর মানে অনেক রকম হতে পারে: তিনি মনে করছেন, তিনি যা লিখেছেন, ছেপেছেন, তার তেমন বাজারমূল্য নেই। একেবারেই নেই। অথবা, তিনি বইটার খরচ-খরচা এমন জায়গা থেকে পেয়েছেন, যা দরিয়া মে ঢালতে উৎসাহিত করেছে। বা বন্ধুবান্ধব মিলে যে তহবিল নির্মাণ করেছেন, তা এই বইয়ের পেছনে ঢালতে পেরে মহৎ কাজ করছেন মনে করে খুশিতে আত্মহারা হয়েছেন, হচ্ছেন, হতে থাকবেন।
কবিতা ১ হতে ৪৪ অবধি শিরোনাম নেই। এমনকি বইয়ের শিরোনাম কাব্যগ্রন্থের মতো শিরোনাম নয়। ৪৪ কবিতা। একটা সংকলনধর্মী নামকরণ। ২/১টা কবিতা বাদে সকল কবিতাই বচনধর্মী বা প্রবচনধর্মী। যার মাধ্যে-মধ্যে বসত গড়েছে স্যাটায়ার। মাঝে-মধ্যে তিনি কবিতা করতে বসেছেন, বা করছেন, তা তিনি ভুলেই বসেছেন যেনো। ৩৬ নং কবিতা দেখুন:

কৃষকের হাতে একদিন আমি শ্রেণীসংগ্রামের বীজ তুলে দিব
সেই বীজ দিয়ে কৃষক বীজতলা বানাবে
তারপর সমস্ত ক্ষেত জুড়ে ফলবে ফসল আর ফসল
কিষান কিষানীরা
হাসতে-হাসতে, নাচতে-নাচতে, গাইতে-গাইতে
তুলবে সেই ফসল
আমি একদিন বাংলাদেশের সমস্ত কিষান-কিষানীর হাতে
তুলে দেব বীজ
শ্রেণী-সংগ্রামের বীজ

দুপুর মিত্রের রয়েছে ছোট্ট ছোট্ট বাস্তবতা থেকে ভিন্ন ভিন্ন বোধ, বেদনা, চাওয়া পাওয়ার দোলা আবিস্কারের চেষ্টা। ২৩ নং কবিতা দেখুন:

পুলিশের হাতে লাঠি-বন্দুক থাকার
মানে হচ্ছে দেশের খুব কম লোকই
প্রচলিত রাষ্ট্রের পক্ষে

আবার মহত্বদানের প্রচেষ্টা। ২৬ নং কবিতা দেখুন:

বিয়োগেও আনন্দ আছে
এ কথা শিশুটিও বোঝে
কেননা
গ্যাসবেলুন উড়িয়ে দিয়ে
সেও আনন্দে লাফিয়ে উঠে

খুঁজতে খুঁজতে এমন একটা কবিতা পাওয়া গেলো, যা কবিতার মতো করে ভাবতে হলো। ধ্যানমগ্ন একজন মানুষের আকাঙ্ক্ষা আমাকে বেশ দোলা দিতে পেরেছে। ২৭ নং কবিতা দেখুন:

জলের নিচে যে আকাশ
সে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে
মাছ আর গাঙচিল
আর তার পাশে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে আমায়
চুপচাপ
প্রাচীন যুগের পাথুরে গড়া মূর্তির মতো

১০ নং কবিতার অংশ:

বাংলাদেশের সমস্ত সুন্দর
সমস্ত মানুষের আগামী সুদিন
উঠোনের উপর চিকচিক করে চলেছে অজস্র বছর
আমার এরকম মনে হয়

আমার এরকম মনে হয়… এ লাইনটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, আর কবিতাটা দূর্বল করে রেখেছে। আবার ১ নং কবিতাটিতে ‘ নায়ক ’, ‘ নিত্যনতুন শিশু ’ এই শব্দ ব্যবহার সমিচিন হয়নি বলে মনে হয়েছে।
বইয়ের যতদূর সম্ভব দূর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করলাম। যা বইটার পাঠকপ্রিয়তার ক্ষেত্রে নেতিবাচক দিক। একজন উঠতি তরুণ লেখকের জন্য এ দিকগুলো যেমন বিরূপ প্রভাব রাখতে পারে। তেমনি তার শুধরে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আশা করি।
পাঠক, এ বইয়ের কবিতাগুলো দুপুর মিত্রর ভাবনা, ক্ষোভ, বেদনা, আকাক্সক্ষা, স্বপ্ন, আনন্দ, তার নির্মাণকে চিনিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। তার কবিতার মধ্যে ভালোলাগার যে পরিব্যাপ্তী আমাকে বেশ আন্দোলিত করেছে, সে উচ্ছ্বাসটা আমি দেখালাম না। কারণ পাঠক সহজেই তার কবিতা থেকে সব আনন্দগুলো বের করে আনতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।
দুপুর মিত্রের সৃজনশীলতার এই লাঙলে তার শরীরের দাগ আছে। বেশ ভালোভাবেই আছে।

5
আপনার রেটিং: None গড়: 5 (1 টি ভোট)

* প্রতিক্রিয়া *

কমেন্টাইছেন: ফয়সল অভি » ৯ মার্চ, ২০১০, মঙ্গলবার, ২৩:৫২ শেষভাগ

ফয়সল অভি -এর ছবি

আমি নিজেই বইটি খুঁজছি পড়ার জন্য কিন্তু চট্টগ্রামে কোথাও পেলাম না । কারণ তার বেশ কয়েকটি কবিতা আমার কানে এসেছে ।

কমেন্টাইছেন: সরসিজ আলীম » ৯ মার্চ, ২০১০, মঙ্গলবার, ২৩:৫৪ শেষভাগ

সরসিজ আলীম -এর ছবি

এ পোষ্টে মেইল আইডি দিয়েছি। ওকে মেইল করেন, পাঠিয়ে দেবে।

ধন্যবাদ।

কমেন্টাইছেন: কাওছার আহমেদ » ১০ মার্চ, ২০১০, বুধবার, ০১:৩২ প্রথমভাগ

কাওছার আহমেদ -এর ছবি

একটি ভালো উদ্যোগ! শুধু ছাপার খরচ দিয়ে কেউ যদি বই ছাড়ে বই পড়ার অভ্যাস বাড়বে আমাদের। বইটি সবাই যোগার করবেন এই কামনা করি।

কমেন্টাইছেন: সরসিজ আলীম » ১০ মার্চ, ২০১০, বুধবার, ০১:৪৪ প্রথমভাগ

সরসিজ আলীম -এর ছবি

ধন্যবাদ।

কমেন্টাইছেন: গুরুভাই » ১০ মার্চ, ২০১০, বুধবার, ০৩:৫২ প্রথমভাগ

গুরুভাই -এর ছবি

থাম্বস আপ ফুল

কমেন্টাইছেন: সরসিজ আলীম » ১০ মার্চ, ২০১০, বুধবার, ০৭:৪২ প্রথমভাগ

সরসিজ আলীম -এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন।

কমেন্টাইছেন: অবুজ রতন » ১৩ মার্চ, ২০১০, শনিবার, ২৩:০৪ শেষভাগ

অবুজ রতন -এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ আলীম ভাই ।

কমেন্টাইছেন: সরসিজ আলীম » ১৪ মার্চ, ২০১০, রবিবার, ০৯:০৮ প্রথমভাগ

সরসিজ আলীম -এর ছবি

স্বাগতম রতন ভাই !

ভালো থাকবেন। দেখা হবে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s